নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলে টারবাইন বিস্ফোরণ আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ
নাটোর ও লালপুর প্রতিনিধি : নাটোরের লালপুরের গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলের কারখানায় টারবাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দিনগত রাত ১ টা পর্যন্ত টানা ১৪ ঘণ্টা আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হলে ফের বিকট শব্দে টারবাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খবির উদ্দিন মোল্যা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মিলের কারখানায় বিকট শব্দে টারবাইন বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের আশেপাশে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। তবে এতে কেউ হতাহত না হলেও এরপর থেকে আখ মাড়াই বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশনকে জানানো হয়।
সেখান থেকে প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হক ও প্রধান রসায়নবিদ আনিসুল আজমসহ একটি দল এসেছেন। তারা মেরামতের চেষ্টা করছেন। টারবাইন মেরামত করা যেহেতু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই বিকল্প পদ্ধতিতে আখের রস প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করাসহ আখ মাড়াই শুরু করার চেষ্টা চলছিল। তিনি বলেন, গেল বছরও একইভাবে মিল চালুর পর মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
এবছরও চালুর কয়েক ঘণ্টার পর এবং গতকাল শুক্রবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৪ ঘণ্টা আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হলে ফের বিকট শব্দে টারবাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে মিলের মেশিন বা যন্ত্রাংশ আধুনিকীকরণ করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুনব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিলের জন্য জাভা থেকে পুরোনো যন্ত্রাংশ কিনে এনে মিলটি চালু করা হয়। প্রথম দিকে মিলটি বেশ লাভজনক ছিল। পরে মিলের যন্ত্রাংশগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সঠিকভাবে প্রসেসিং আর হয় না। এতে চিনির পরিবর্তে মুলাসিসের পরিমাণ বেশি হয়। ফলে চিনি উৎপাদনের হার কম হয়। গত কয়েক বছর ধরে মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন শুরু হলেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় বার বার ত্রুটি মেরামত করে মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত মিলের যন্ত্রাংশ আধুনিকীকরণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থাতেও গত বছর মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন করে ২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তবে মিলের ৩৫০ কোটি টাকা ব্যাংকে ঋণ থাকায় বছরে ৫৯ কোটি টাকা ব্যাংককে সুদ দিতে হয়।
ফলে উৎপাদনের লাভ হলেও সুদের কারণে প্রতি বছর মিলকে লোকসান গুণতে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মিলের যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণভাবে আধুনিকীকরণ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে প্রায় এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
মন্তব্য করুন