সিরাজগঞ্জে চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় চালকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের চলন্ত ট্রাকে ৪ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের দায়ে চালক সোহেল রানাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ট্রাকচালক সোহেল রানা (৩২) বগুড়া সদর উপজেলার আসোখোলা গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে।
সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি দেশে করোনা ভাইরাস চলাকালীন চন্দ্রা থেকে ভিকটিমসহ ২ পুরুষ যাত্রী নিয়ে চালক সোহেল রানা এবং হেলপার ওহাব শেখ ট্রাকযোগে বগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় যমুনা সেতু পশ্চিম পার হয়ে ট্রাক থামিয়ে চালক ট্রাকটি নষ্ট হয়েছে জানায়। ঠিক করতে তা অনেক সময় লাগবে। এসময় ২ পুরুষ যাত্রী নেমে যান। তবে যাত্রী ওই তরুণী ট্রাকের কেবিনের মধ্যে ছিলেন। পরে কেবিনের ভেতর চালক সোহেল রানা তরুণীকে ধর্ষণ করে। এসময় তার চিৎকার শুনে ট্রাকের এক যাত্রী ঘটনাটি তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। আসামিরা তা দেখে দ্রুত তরুণীসহ ট্রাক নিয়ে বগুড়ার দিকে চলে যান। তখন ভিডিওধারণ করা যাত্রী ৯৯৯ এ ফোন করে পুরো বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন। পুলিশ এ খবরে সেতুর পশ্চিমে কড্ডার মোড় নামক স্থানে ধর্ষক ২ আসামি এবং ভিকটিমসহ ট্রাকটি আটক করে।
তাদের সবাইকে যমুনাসেতু পশ্চিম থানায় নেয়ার পর ভিকটিমের বাড়িতে খবর দেন। পরে তার বাবা এবং ভাই থানায় আসেন। তারা ভিকটিমের কাছে ঘটনা শুনে ভিকটিমের বাবা আলতাফ হোসেন অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর ট্রাক চালক সোহেল রানা স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ২০২৩ সালের ১২ মে মামলার আরেক আসামি আব্দুল ওহাব কারাগারে মারা যায়।
মন্তব্য করুন