বগুড়ার বাজারেও সয়াবিন তেলের ভয়ঙ্কর তেলেসমাতি

শাওন রহমান : ক’দিন পরেই পবিত্র মাস রমজান। সিয়াম সাধনার এই মাসে যে কয়েকটি পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয় তার মধ্যে ভোজ্যতেল অন্যতম। অথচ প্রায় তিন মাস থেকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হলেও রমজান সমাগত হলেও এখনও কাটেনি। বরং সংকট এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে দোকানে ঘুরে ঘুরেও মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। আবার যে কয়েকটি দোকানে মিলছে তা গায়ে লেখা দামের চেয়ে ১৫/২০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অথচ তথ্য বলছে, চাহিদার তুলনায় তিনগুণ বেশি সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে।
আজ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। বিভিন্ন ব্রান্ডের এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০/১৯৫ টাকা, অথচ বোতলের দায়ে দাম লেখা ১৭৫ টাকা। দুই লিটার তেল ৩৪০ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৩৮০/৩৯০ টাকা, আর পাঁচ লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়। ক্রেতা আব্দুল আলীম করতোয়া’কে বলেন, দোকানে প্যাকেট বা বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এখন দোকানিরা খোলা তেল নিতে বলছেন। খোলা তেল প্রতি কেজি ১৯৫ টাকা ধরছে। আর কিছু কিছু দোকানে বোতলজাত তেল বিক্রি হলেও গায়ে লেখা দামের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দাম চাচ্ছে। এই ডেভিলদের ধরবে কে?
অপর ক্রেতা শিউলি বেগম বলেন, বাজারে দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও দাম বেশি ধরছে। আবার কোন কোন দোকানি গায়ে লেখা দামেই তেল দিতে চাচ্ছেন, তবে অন্য পণ্য নিতে বলছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিন মাসের বেশি হলো এমন অবস্থা চলছে, সামনে রমজান মাস বাজারের ডেভিলদের না ধরলে এমন সংকট বছর জুড়েই ভোগ করতে হবে।
তেল বিক্রেতা মামুন মিয়া বলেন, আমরা চাহিদামত বোতলজাত সয়াবিন পাচ্ছি না। কোনও ডিলার বা কোম্পানির প্রতিনিধি আমাদের সয়াবিন তেল দিচ্ছে না। অর্ডার কেটে টাকা দিয়ে রাখলেও তেল মিলছে না, যা পাচ্ছি তার দামও বেশি ধরছে।
অপর দোকানি হরিষ চন্দ্র বলেন, কোম্পানিগুলো তেল স্বাভাবিক যে চাহিদা সেই অনুযায়ী সরবরাহ করছে না। দিলেও সঙ্গে বাধ্যতামূলক চাল, সুজি, আটা, সরিষার তেল দিচ্ছে। দোকানি ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির লোকেরা তেল আসেনি, আসবে এভাবে মাসের পর মাস পার করছে। সপ্তাহে দু’একদিন তেল দিলেও সঙ্গে অন্য কম চাদিহাসম্পন্ন পণ্য বাধ্যতামূলক নিতে হচ্ছে। আবার বোতলের গায়ে যে দাম লেখা সেই দাম ধরছে, কোন কোন কোম্পানি ও ডিলার গায়ে লেখা দামের চেয়েও বেশি দাম ধরছে।
জানতে চাইলে বগুড়ার পুষ্টি তেলের ডিলার নবীন স্টোরের বেলাল হোসেন বলেন, সরকার খোলা তেলের দাম বাড়ালেও বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াচ্ছে না, ফলে ঠিকমতো তেল দিচ্ছে না কোম্পানি। ১০ লাখ টাকার পণ্য চাইলেও সরবরাহ করছে দুই লাখ টাকার। কোম্পানি থেকে চাহিদা মতো সরবরাহ না থাকায় বাজারে তেলের সংকট। তবে তিনি দাবি করেন, তারা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন না।
আরও পড়ুনমেঘনা গ্রুপ’র (ফ্রেশ ব্রান্ড) ডিলার মিশু ট্রেডিংয়ের রাকিব হাসান মিশু বলেন, বাজারে এই ব্রান্ডের যে পরিমাণ তেলে চাহিদা রয়েছে তার তুলনায় গত প্রায় তিন মাস ধরে সরবরাহ কম। আবার অর্ডার মোতাবেক তেল নিলে তার সাথে অপ্রচলিত পণ্য বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হচ্ছে। সবমিলে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিকে তুলনায় খুবই কম। তবে তিনি দাবি করেন, বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে দু’এক টাকা কমেই তিনি তেল বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপ’র টেরিটরি সেলস ম্যানেজার মো. জাকারিয়া করতোয়া’কে বলেন, কোম্পানি থেকে সরবরাহ কমের কারণেই তারা বাজারে চাহিদামত তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। আবার অন্যান্য কোম্পানিও চাহিদামত তেল সরবরাহ না করায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান এ ব্যাপারে করতোয়া’কে বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে বেশি দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ তারা পেয়েছেন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।
দাম বেশির ব্যাপারে খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করে এই কর্মকর্তা বলেন, কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা সুযোগ বুঝে বেশি মুনাফার আশায় বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। এদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য করুন