চট্টগ্রাম বন্দর দখলের হুমকি ভারতীয় নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল ত্রিপুরা মোথা পার্টির শীর্ষ নেতা প্রদ্যুৎ মাণিক্য দেববর্মা। বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রদ্যুৎ বলেন, উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের যোগাযোগ উন্নত করার প্রয়োজন নেই, বরং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলটি যদি দখল করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন ভৌগলিক বিচ্ছিন্নতা কাটবে-অন্যদিকে সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্য নিজেদের ব্যবহারের জন্য একটি সমুদ্রবন্দর পাবে।সম্প্রতি চীন সফরে গিয়েছিলেনে ড. ইউনূস। সেখানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড (স্থলবেষ্টিত)। সমুদ্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। আমরাই এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক। এটি একটি বিশাল সম্ভাবনা। চীনের অর্থনীতির জন্যও এটি একটি নতুন ক্ষেত্র হতে পারে।’
তার এই মন্তব্যর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান সেভেন সিস্টার্সের অন্যতম সদস্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের এই মন্তব্য ভারতের কৌশলগত চিকেন’স নেক কডিডোরের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। চিকেন্স নেক করিডোরের আশেপাশে আরও শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও আহ্বান জানান আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রতিক্রিয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ত্রিপুরার রাজপরিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী এবং বর্তমানে বিজেপি’র অন্যতম জোটসঙ্গী ত্রিপুরা মোথার শীর্ষ নেতা প্রদুৎ মাণিক্য দেববর্মা। এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দখলের হুমকি দেন তিনি। প্রদ্যুৎ বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানকে ছেড়ে দেওয়া, কারণ চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের লোকজন আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল, ভারতীয় ইউনিয়নের অংশ হতে চেয়েছিল।’
আরও পড়ুন“সেই ভুল সংশোধনের সময় এসেছে এখন। একসময় যারা চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করত, সেই আদিবাসী জনগণের সহায়তা নিয়ে আমরা সমুদ্রে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারি। জনাব ইউনূস নিজেকে সমুদ্রের অভিভাবক ভাবতেই পারেন, কিন্তু সত্য হলো— তিনি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং তার বয়স প্রায় ৮৫। এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে যে চট্টগ্রাম থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র কয়েক মাইল।”
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। প্রদ্যুৎ বলেন, “সড়ক ও রেল যোগাযোগের জন্য কোটি কোটি রুপি খরচ না করে আমরা বাংলাদেশকে ভেঙে সমুদ্রপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। বাংলাদেশে লাখ লাখ ত্রিপুরা, গারো, খাসি ও চাকমা জাতিগোষ্ঠীল লোকজন বসবাস করে। তারা ১৯৪৭ সালে ভারতের অংশ হতে চেয়েছিল। বর্তমানে তারা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। যদি আমরা অগ্রসর হই, তাহলে তাদের নিজেদের স্বার্থেই তারা আমাদের পাশে দাঁড়াবে।”
মন্তব্য করুন