বগুড়ার শিবগঞ্জে আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা

মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃষকরা লাভের আশায় আলু চাষ করে এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন। বাজারে দাম কম ও হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। মৌসুমের শুরুতেই দরপতন হয় আলুর। পরে বাজার কিছুটা উঠলেও আবার ধস নামে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ১৯ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। আলু উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫শ’ মেট্রিকটন। বিদেশে রফতানি করা হয়েছে ৭ হাজার মেট্রিকটন। এই উপজেলায় ১৭টি হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৩ মেট্রিকটন। হিমাগারে আলু সংরক্ষণের পর চাষিদের ঘরে আলু মজুদ থাকে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৭ মেট্রিকটন। কৃসকের ঘরে মজুদ রাখা আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
উপজেলার আটমূল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এইবার ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন এবং বেশি দামে বীজ কিনে আলু চাষ করতে বিঘায় ৬০ থেকে ৬২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার দরে এক বিঘা জমির আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
আরও পড়ুনচাষি মমিন জানান, তিনিসহ গ্রামের অনেকে কষ্ট করে আলু উৎপাদন করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না তারা। হিমাগারে বুকিং দিয়েও জায়গা সংকটের কারণে আলু রাখতে পারেননি অনেকেই। বর্তমান বাজারে পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টাকা। এই দামে আলু বিক্রি করে লোকসান গুণতে হচ্ছে চাষিদের।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান জানান, এবার এ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন বাজার দর অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। হিমাগারে জায়গা সংকটের কারণে চাষিরা বাড়িতে মাচা করে সারা বছর আলু সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। এ ব্যাপারে কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সভা এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন