ভিডিও শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

বগুড়ায় ২৫ লাখ টাকার সোনার গহনা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন অটো চালক

বগুড়ায ২৫ লাখ টাকার সোনার গহনা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন অটো চালক

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ১৮ ভরি সোনার গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক খাইরুল ইসলাম।

গতকাল ৪ মার্চ রাত ১১ টার দিকে বগুড়া সদর থানায় এসে পুলিশের মাধ্যমে তিনি এই সোনার গহনা ও টাকা প্রকৃত মালিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহিন এর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। জুয়েলারি ব্যবসায়ী পাবনার ফরিদপুর উপজেলার উত্তর গোপালনগর এলাকার শফিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন বলেন, ঈদের দুদিন আগে ২৯ মার্চ তিনি ব্যবসায়িক কাজে বগুড়া শহরে আসেন। এরপর তিনি শহরের নিউমার্কেট থেকে ২৫ লক্ষাধিক টাকায় ১৮ ভরি সোনার বিভিন্ন গহনা কিনে একটি কালো ব্যাগে ভরে বাড়ি যাওয়ার জন্য শহরের সাতমাথায় যান।

এরপর সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সয় চেপে বনানী যান। সেখানে পাবনাগামী একটি বাসে উঠে রওনা দেন। বাসটি যখন শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা এলাকায় পৌঁছে তখন তার মনে হয় তিনি ভুল করে সোনা ও টাকা সহ তার ব্যাগটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় ফেলে রেখে গেছেন। এরপর তৎক্ষণাৎ তিনি বাস থেকে নেমে পড়েন এবং শাহজাহানপুর ও বগুড়া সদর থানার ওসির দ্বারস্থ হন।

পুলিশের পরামর্শে তিনি শাজাহানপুর থানায় একটি জিডি করেন। সেইসাথে তিনি কয়েকদিন ধরে সাতমাথায় ওই সিএনজি চালককে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তার দেখা না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে ওই সিএনজি অটো রিক্সার চালক খাইরুল ইসলাম বলেন, তার গাড়িতে পাওয়া ব্যাগটি তিনি না খুলে ওই যাত্রীর সন্ধান করতে থাকেন।

কিন্তু তাকে কোথাও না পেয়ে তিনি ব্যাগটি নিয়ে নিজ বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ি হাজীপাড়ায় যান এবং তার মাকে সব খুলে বলেন। এ সময় তার মা তাকে ব্যাগটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে আদেশ দেন। মায়ের আদেশ পেয়ে তিনি ব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে আরো চেষ্টা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ব্যাগ এর মালিককে না পেয়ে তিনি সদর থানার ওসি এসএম মইনুদ্দিনের কাছে যান এবং ব্যাগটি থানায় জমা দেন। এরপর পুলিশ জিডির সূত্র ধরে ব্যাগের প্রকৃত মালিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহিনকে গতকাল ৪ মার্চ রাত ১১ টার দিকে থানায় ডেকে আনেন এবং তাকে বলেন সোনা ও টাকা সহ আপনার ব্যাগটি পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

এরপর সদর থানায় ওসির কক্ষে সিএনজি চালক তার যাত্রী জুয়েলারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহিন কে চিনতে পারেন। পরে সাংবাদিক সহ উপস্থিত লোকজনের সামনে কালো রঙের ব্যাগটি খুলে ১৮ ভরি বিভিন্ন ধরনের সোনার গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা বের করে পুলিশ । এরপর এগুলো আবারো ব্যাগে তুলে সিএনজি অটো রিক্সা চালক খাইরুল ইসলামের হাত দিয়ে প্রকৃত মালিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী শাহিন কে বুঝিয়ে দেন ওসি মইনুদ্দিন।

ব্যবসায়ী শাহীন বলেন সবগুলো সোনার গহনা ও ১৫ হাজার টাকা তিনি ফিরে পেয়েছেন । তিনি বলেন সিএনজি চালক খাইরুল সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চান। কিন্তু চালক খাইরুল পুরস্কারের টাকা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং বলেন ব্যাগে থাকা সোনা ও টাকা তাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি দায়মুক্ত হয়েছেন। সারা জীবন সৎ থাকতে হবে, সৎ থাকলে পরকালে ভালো হবে। মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি সোনার গহনা ও টাকাগুলো ফেরত দিতে পেরে ধন্য মনে করছেন।

তিনি আরো বলেন তিনি একজন ছাত্র। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে তিনি অনার্সে পড়েন। পড়াশুনার টাকা জোগাতে তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালান। তিনি বলেন শিক্ষার উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব অর্জন। অসততা নয়। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি এসএম মইনুদ্দিন বলেন, এ যুগেও যে হাজারো মানুষের ভিড়ে সৎ মানুষ আছে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সিএনজি চালক খাইরুল ইসলাম। সততার জন্য আমি তাকে স্যালুট জানাই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ২৫ লাখ টাকার সোনার গহনা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন অটো চালক

লালমনিরহাটে মসলা ও ঔষধি জাতীয় ফসল তেজপাতা চাষ দিন দিন বাড়ছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

বগুড়ার সোনাতলায় গাছকাটাকে কেন্দ্র করে মারপিটে পুলিশ সদস্য আহত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা

ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ এখনও কাটেনি বগুড়ার শহরে