ভিডিও রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫

পোশাক রফতানিতে বিকল্প পথ খুঁজুন

পোশাক রফতানিতে বিকল্প পথ খুঁজুন। প্রতীকী ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা এশিয়ার এই স্বল্পোন্নত দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতকে কঠিন সংকটে ফেলতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যোগান দেয় ও প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দেশের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ এই শিল্প থেকে আসে। তাই, এই নতুন শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পালটা শুল্কের যে ঘোষণা দিলেন, তাতে রীতিমতো ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এর প্রভাব শুধু বড় অর্থনীতির দেশগুলোতেই নয়, উন্নয়নশীল এমনকি ছোটো অর্থনীতির দেশগুলোও পড়েছে। সবাই এখন হিসাব কষছে, এর প্রভাব কতটা পড়বে দেশগুলোতে। বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা এসেছে, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে। এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে সাড়ে ১৫ শতাংশ।

যা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে, তার মধ্যে রয়েছে স্ক্যাপ আয়রণ, পেট্রোলিয়াম ও কটন বা তুলা। এ ছাড়া কৃষি পণ্য, যেমন খাদ্য শস্য, বীজ, সয়াবিন, গম এবং ভূট্টা। সব মিলিয়ে বছরে আড়াই বিলিয়ন ডলারের কমপণ্য বাংলাদেশে আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অন্যদিকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪০ কোটি ডলারের (৮.৪ বিলিয়ন) পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের পরিমাণ ৭৩৪ কোটি ডলার। নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সংশ্লিষ্ট এক উদ্যোক্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি করেছে। প্রথমত: বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে তার প্রতিযোগীদের তুলনায় উচ্চ শুল্ক কাঠামোর সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তরের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানি খরচ এবং চীনের তুলনায় বেশি হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কর আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের যে মৌলিক সমস্যা ছিল, যা মূলত আমদানি থেকে সংগ্রহ করা হয়, তা এখন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে। কারণ, আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমদানি শুল্ক হ্রাস বা মওকুফ করতে হবে।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশকে এখন কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বাড়ানো। সেই সঙ্গে বিকল্প বাজার খোঁজা ও  ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নিতে হবে। আবার রপ্তানিকারকদের জন্য সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নেতারা বলছেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।

নতুন ট্রারিফ ঘোষণার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে। এতে আমরা সবাই অবশ্যই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব। যে ধারণা থেকে এটা করা হচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প পুনরুদ্ধার করা হবে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা মনে করেন এটা সহসা হবে। কারণ একটা শিল্প ডেভেলপ করা রাতারাতি সম্ভব নয়। এর পেছনে শ্রমের খরচসহ অনেক ফ্যাক্টর আছে। ফলে দেশটির মানুষের খরচ বেড়ে যাবে।

এই খরচ যদি বেড়ে যায়, তাহলে তাদের মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো কিছু হবে না। আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র যে অসম বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধ করেছে, তা বেশি দিন অব্যাহত রাখতে পারবে না। ইউরোপসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিজ নিজ স্বার্থে এ সংকট খুলতে উপায় বের করবে এবং তাতে সবাই শামিল হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধে আ’লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাত

বগুড়ার নন্দীগ্রামের ঝাঁজালো সরিষার কাসুন্দি যাচ্ছে ঢাকায়

ঈদ ঘিরে বগুড়ায় শতকোটি টাকার দই বিক্রি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

বিএনপি ক্ষমতায় এলে মন্দিরে হামলারও বিচার হবে সাবেক এমপি মোশারফ

শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার বড় পার্থক্য রয়েছে