আওয়ামী লীগ জামায়াতের ফাঁদে পড়েছে : টুকু

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১১:৫৫ রাত
আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২২, ১১:৫৫ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পরকীয়া প্রেম চলছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

আজ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডির হাজারীবাগে এক সমাবেশে এ রকম প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিএনপি নেতা টুকু বলেন, উনারা (আওয়ামী লীগ সরকার) জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেন কিন্তু বেআইনি ঘোষণা করেন না। তাহলে কি আমি বলব, উনাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেম চলছে? তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে- বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-জামায়াত। আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে এটা বুলি হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে আওয়ামী-জামায়াত, আওয়ামী-জামায়াত বলার জন্য। জামায়াতও উর্দু, আওয়ামীও উর্দু- দুইটার সাথে মিলবে ভালো। যখন আপনারা (আওয়ামী লীগ সরকার) বললেন, যুদ্ধাপরাধী-বিদ্রোহী, আমিও স্বীকার করি। নিবন্ধন বাতিল করলেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে বেআইনি ঘোষণা করলেন না কেন? তার অর্থ- আওয়ামী লীগ জামায়াতের ফাঁদে পড়েছে। তাই আজকে থেকে আওয়ামী-জামায়াত হবে, বিএনপি-জামায়াত আর হবে না। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ধানমন্ডি জোন-৪ এর উদ্যোগে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা এবং নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়। ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে এই সমাবেশ হয়। এর আগে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী যুবলীগও সেখানে কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশ উপলক্ষে হাজারীবাগে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ : হাজারীবাগে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্য এক দফা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে হাজারীবাগের টালি অফিস রোডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে। পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকজন কর্মীকে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। এ সময় গণমাধ্যমের কয়েক কর্মীও আহত হয়। তবে বিএনপির কর্মীরাই একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশকে দুই পক্ষকেই নিবৃত্ত করতে দেখা যায়। অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষ দুইদিকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ প্রসঙ্গে টুকু বলেন, আজকে যে ঝড়-ঝাপটা গেছে, অলি-গলি থেকে ওরা (আওয়ামী লীগ) আমাদের ওপরে গুপ্ত হামলা করেছিল। পুলিশ যদি ওদের দলীয় কর্মী হতো, তাহলে আজকে আমরা এখানে সভা করতে পারতাম না। এজন্য পুলিশ ভাইদের ধন্যবাদ দিই। 

এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে গণতন্ত্রের জন্য যে পুলিশ ভাইয়েরা জীবন দিয়েছিল আপনারা তার উত্তরসূরি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য রুখে দাঁড়াবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সময় এসে গেছে- আপনারা জনগণের কাতারে ফিরে আসুন, জনগণের সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেন। 

বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে সমাবেশে আগমন প্রসঙ্গে দলটির এই নেতা বলেন, বিএনপির কর্মীদেরকে ওরা মারতে মারতে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে- তারা আজকে আত্মরক্ষার জন্য লাঠি হাতে নিয়েছে। বিএনপির কর্মীরা নিজ ইচ্ছায় হাতে লাঠি তোলেনি। 

ক্ষমতার জন্য জনসভা বা আন্দোলন নয়-এমন দাবি করে টুকু বলেন, আমরা এই জনসভা-আন্দোলন করছি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। 

তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের জীবন আর চলছে না, তাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে গেছে। এর থেকে উত্তরণে সরকার পতন ছাড়া কোনো উপায় নেই। 

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় সমাবেশে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। 

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির শাহজাহান ওমর, আবদুল খায়ের ভুঁইয়া, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, শেখ রবিউল আলম রবি, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়