বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘জাতীয় অনুসন্ধান কমিশন’ কেন নয়: হাই কোর্ট

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৩:৪৩ দুপুর
আপডেট: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ১১:৩৬ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি স্বাধীন ‘জাতীয় অনুসন্ধান কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করে।
২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাসের পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশফাকুজ্জোহা।

সোমবার আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল আলিম জুয়েল। সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবীঅ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস, অ্যাডভোকেট আশফাকুজ্জোহা, অ্যাডভোকেট আসালাম মিয়া ও অ্যাডভোকেটমো. মিনহাদুজ্জামান লিটন।

রিট মামলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার আদ্যোপান্ত এবং জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিতকরণে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

ব্যারিস্টার জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছিল ২১বছর পর। এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেক মারা যাওয়ায় তাদের মামলায় আসামি করা যায়নি।


“আবার হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও এর ষড়যন্ত্র ও নীলনকশার সঙ্গে অনেকে জড়িত ছিল, যারা পরবর্তীতে এ হত্যাকাণ্ড থেকে লাভবান হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়নি। এ বিষয়গুলো তুলে ধরে আমরা শুনানিতে কমিশন গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছি।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

একদল সেনা কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিলেও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছিল। খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তাদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃতও করা হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ খোলে। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম তখন ধানমণ্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলায় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তখনকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আপিলের রায়ে এই ১৫ জনের মধ্যে তিনজন খালাস পান। যে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে উচ্চ আদালত, তাদের একজন আজিজ পাশা পলাতক থাকা অবস্থায় দেশের বাইরে মারা যান বলে খবর আসে।

বাকি ১১ জনের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ, মহিউদ্দিন আহমদ, এ কে বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন বন্দি অবস্থায় আদালতে রিভিউ আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়।

এরপর ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ওই পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয় ঢাকার কারাগারে। বাকি ছয়জন পলাতক থেকে যান।

এর প্রায় ১০ বছর পর ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে পলাতক ছয়জনের একজন ৭২ বছর বয়সী মাজেদকে ঢাকার গাবতলী থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় সরকার।পলাতক মাজেদের আপিলের সুযোগ ছিল না। রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন, যা নাকচ হয়ে যাওয়ার পর কেরানীগঞ্জের কারাগারে ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর হয়।


বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যে একটি অনুসন্ধান কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে এ কমিশনের সদস্যদের বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয়নি।তখন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ছিলেন জিয়াউর রহমান, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন।

পরে ১৯৮২ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাজ্যের এই কমিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

সে প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনি ও বিচার প্রক্রিয়াকে তার নিজস্ব পথে এগোতে দেওয়া হয়নি। আর এজন্য সরকারই দায়ী।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়