মৌলভীবাজারে আমনের বাম্পার ফলন কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০৮, ২০২০, ০৮:৫০ সকাল
আপডেট: ডিসেম্বর ০৮, ২০২০, ০৮:৫০ সকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

অনলাইন ডেস্ক: কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত এখন মৌলভীবাজারের কৃষকরা। এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে রোপা আমনের। তাই চোখে-মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলাতে এবাব বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৪০ একর এবং অনাবাদী জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৬৯৫ হেক্টর।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কাজী লুৎফুল বারী জানিয়েছেন, মৌলভীবাজারে গত বছরের তুলনায় চলতি রোপা আমনের বাম্পার ফলন হতে চলেছে। ২০১৯ সালে আবাদ ছিল এক লাখ ১৫০ হেক্টর। চলতি বছর আবাদ হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪৮০ হেক্টর। তিনি জানান, ধান থেকে চাল উৎপাদনে ২০১৯ সালে ফলন ছিল দুই দশমিক ৮৫ টন প্রতি হেক্টর। সে তুলনায় চালে উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৮৫ হাজার ৪২৮ মেট্রিক টন। চলতি বছর ধারণা করা হচ্ছে ফলন দুই দশমিক নয় টন প্রতি হেক্টরে গিয়ে দাঁড়াবে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে চাল উৎপাদন হবে দুই লাখ ৯৪ হাজার ২৯২ টন। উৎপাদনের বিবেচনায় আট হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন বাড়তি উৎপাদন পাওয়া যাবে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।

তিনি বলেন, এবারই প্রথম হাওড় এলাকায় রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে যা আগে হয়নি। ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা ধান উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন। আগে ধানের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ। এখন তো মণ প্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কৃষকরা কখনো ধানের এতো দাম পায়নি। এটি একটি বিশাল অর্জন। দ্বিতীয়ত আমরা এবার কিছু উন্নতজাতের ধান কৃষকদের দিয়েছি। সেগুলো হলো ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৫ এবং ব্রি ধান ৮৭। এই ধানগুলো খুবই উচ্চ ফলনশীল জাতের। এই চারটি জাতের মধ্যে ব্রি ধান ৮৭ জাতটাই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ করে উৎপাদন হয়। আমরা ভালো মানের জাত কৃষকদের দিয়েছি। তারপর সার এবং কীটনাশক সহজলভ্য ছিল। সারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকরা সময় মতো ফসলে সার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কার্তিক মাসে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিতে আগাম শীতের শাকসবজির কিছুটা সমস্যা হলেও ধানের জন্য অনেক লাভ হয়েছে। বিশেষ করে যে কৃষকরা একটু বিলম্বে আবাদ করেছেন তাদের জন্য বেশ লাভ হয়েছে এই কার্তিকের বৃষ্টি। ফলস খুবই ভালো হয়েছে। এই বৃষ্টি না হলে ধান স্বাভাবিকভাবেই খরায় পুড়তো এবং ফসল এতটা ভালো হতো না। কার্তিকের বৃষ্টি আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে তিনবার বন্যা হয়েছে। আমাদের এখানে বন্যা হয়নি। ফলে আবহাওয়া এবং প্রকৃতি আমাদের সম্পূর্ণ অনুকূলে ছিল। যথাসময়ের বৃষ্টিপাত, খরা না থাকা, কোনো পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা, সার এবং কীটনাশক যথাসময়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো, সর্বপরি উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সরবরাহ করা এবং ধানের উচ্চমূল্য পাওয়ার জন্য কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়গুলোই এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে। মৌলভীবাজারে আমনের এতো ফলন আগে কখনও হয়নি। কৃষকরা আনন্দের সাথে তাদের কষ্টার্জিত ফলন ঘরে তুলতে পারছেন বলেও এসময় উল্লেখ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়