কাউনিয়ায় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৭:৫৪ বিকাল
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ০৭:৫৪ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়ায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ লোকজনের দেশীয় অস্ত্রের হামলায় আহত বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে লাঠির আঘাতে আহত শিশু আনজুয়ারা বেগম (১২) মারা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। সে টেপামধুপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। এর আগে গত সোমবার উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার জমিজমা বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজনেরা আব্দুল হামিজ ও তার আত্মীয় স্বজনদের ওপর হামলা করে। প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রের দিয়ে আব্দুল হামিজের ছেলে আমজাদ হোসেন মারপিট করতে থাকে। আমজাদ হোসেনের ১২ বছর বয়সের শিশু মেয়ে আনজুয়ারা এগিয়ে গিয়ে বাবাকে বাঁচাতে তাকে জড়িয়ে ধরে। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজনেরা শিশু মেয়েটিকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে।


রহমানীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আনজুয়ারা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল। পরে সে স্থানীয় এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে।


পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বিশ্বনাথ গ্রামের আব্দুল হামিজের বসতভিটার কিছু অংশ প্রতিবেশী সাবেক মেম্বার আব্দুল হাকিম নিজের দাবি করে এক মাস আগে সীমানা নির্ধারণ করেন। সেই সঙ্গে জমিতে থাকা গাছ কেটে ফেলেন। এই সীমানা নিয়ে সন্দেহ হলে হামিজ ও তার স্বজনেরা গত সোমবার বিকেলে পুনরায় সীমানা নির্ধারণ করতে যান। এতে হাকিম তার লোকজনেরা বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষ বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাকিম তার লোকজনেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল হামিজ ও তার লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে হামিজসহ তার পক্ষের ছয়জন এবং হাকিমের পক্ষের তিনজন আহত হন। পরে হামিজসহ তার পক্ষের ছয়জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আমজাদ হোসেনের মেয়ে আনজুয়ারা (১২) ও হামিজের স্ত্রী আমেনাকে (৫০) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আব্দুল হামিজ (৫৫), তার ছেলে আমজাদ হোসেন (৩৩), সিনবাদ (২৬) ও আফজাল হোসেন (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক মাসুদার রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে সোমবার রাতে হামিজের চাচাতো ভাই আব্দুল সোলেমান বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার পরই অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হাকিম, মোস্তফা ইসলাম, আব্দুল খলিল মিয়া ও মজনু মিয়াকে গ্রেফতার করে গত মঙ্গলবার রংপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত থেকে ওই চারজনসহ মামলায় অভিযুক্ত ১৩ জন জামিনও পেয়েছেন।


কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমুর রহমান বলেন, মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, মামলার সব আসামি যেহেতু জামিনে আছে। সেহেতু আমরা হামলার ঘটনায় শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে জানাবো।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়