মাঝ রাস্তায় যাত্রী নেওয়া বন্ধ করতে হবে

প্রকাশিত: আগস্ট ০৫, ২০২২, ১১:৪১ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ০৫, ২০২২, ০২:৩৮ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

ঢাকা: কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের বাসটিতে টাঙ্গাইলে এসে ভয়াবহ ডাকাতি ও নারী যাত্রীরা ধর্ষণের কবলে পড়ার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং ওই বাসের যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, রাস্তার মাঝপথ থেকে ওঠা ১৩ যাত্রী জড়িত ছিলেন এ ঘটনায়। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ যাত্রীবেশে ডাকাতি করা রাজা মিয়া (২৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

ভয়াবহ এ ঘটনার পরে পরিবহন যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  এনায়েত উল্যাহ ও ঈগল পরিবহনের মালিক সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে।

তাদের স্বাক্ষাৎকারে বারবার উঠে এসেছে মাঝপথ থেকে যাত্রী নেওয়া, বিনা টিকিটে যাত্রী নেওয়া, পরিবহনের ভেতরে সিসিটিভি না থাকা ও যাত্রীদের ভিডিও রেকর্ড না করার কারণেই এমন ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে।

সড়কে ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা কেন ঘটছে এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহনে মাঝপথে যাত্রী নেওয়া, সিসিটিভি না থাকা ও সড়কে নিরাপত্তা কেন্দ্রীক সমন্বয়হীনতার জন্য এসব হচ্ছে।

মাঝপথে বিনা টিকিটের যাত্রীদের জন্যে অন্য যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে এবং এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে ঈগল পরিবহনের মতো ব্রান্ডেড পরিবহনও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে সজাগ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে টাঙ্গাইলের ঘটনা নিয়ে এখনই কোনো কর্মসূচি না দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।   সংকট কাটাতে কী করা উচিত এমন প্রশ্নে তিনি চৌধুরী বলেন, প্রত্যেকটা গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে, স্বল্প খরচে এটা লাগিয়েই মনিটরিং করতে পারবেন পরিবহন মালিকরা। এটাতে শুধু যাত্রীদেরই কল্যাণ হবে না বরং মালিকরা নিজেদের পরিবহনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কেও জানবেন।

একই সঙ্গে ভিডিও করে নিতে হবে যেন প্রতিটি যাত্রীকে চিহ্নিত করা যায় এবং মাঝপথ থেকে বাসে যাত্রী তোলা থেকে বিরত রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির কাছে সড়কে ডাকাতির কোনো পরিসংখ্যান আছে কিনা এমন প্রশ্নে মোজাম্মেল চৌধুরী বলেন, করোনার আগ পর্যন্ত আছে। কিন্তু করোনার সময় আমাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়। সঙ্গে অর্থ ও জনবল সংকট তো আছেই।

এদিকে ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  এনায়েত উল্যাহ নিজেদের (পরিবহন মালিক) দায়ের থেকে বেশি দেখছেন হাইওয়ে পুলিশের যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়াকে।

টাঙ্গাইলের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আছে, এ ঘটনায় পরিবহন মালিক সমিতি কি ভাবছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। যেটা ঘটছে হাইওয়ে পুলিশকে আরও বেশি তৎপর হওয়া উচিত। আমাদের নির্দেশনা দেওয়া থাকে, মাঝপথে যেন কোনো যাত্রী না নেওয়া হয়। হাইওয়ের পাশে কোন হোটেলে দাঁড়ালে সেখানে ভিডিও করা।

মাঝপথে যাত্রী তোলা বন্ধ করা তো পরিবহন মালিকদের কাজ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা বললেই তো হয়ে যায়, এমন তো না। যারা এমন করবে তাদের (পরিবহন মালিক-শ্রমিক) বিরুদ্ধে (পুলিশ) ব্যবস্থা নেবে।

পরিবহনে সিসিটিভি চালুর বিষয়ে এ পরিবহন নেতা বলেন, দামী পরিবহনগুলোতে সিসিটিভি আছে, এ নিয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তবে কম দামি পরিবহনে এখনো এ সংস্কৃতি চালু হয়নি। সিসিটিভি চালুর জন্য হাইওয়ে পুলিশ যেন কঠোর হয়।

যাত্রীদের আতঙ্ক দূর করতে মালিক সমিতি কী ভূমিকা নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো বন্ধ না হলে যাত্রীদের আতঙ্ক দূর হবে না। পরিবহন মালিকরা পদক্ষেপ নেবে, একই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে।

এদিকে ঈগল পরিবহনের যে বাসটিতে ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সেটার মালিক সোলায়মান হক বলেন, তার পাঁচটি বাসের মধ্যে কুষ্টিয়া থেকে একটি বাস নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসটি নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল। বাসটির চালক ছিলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কৈপাল গ্রামের মনিরুল ইসলাম। সুপারভাইজার ছিলেন পাবনা জেলা সদরের রাধানগর মহল্লার রাব্বী হোসেন ও হেলপার একই উপজেলার টেবুনিয়া গ্রামের দুলাল হোসেন।

সোলায়মান হক দাবি করেন, তার বাসে থাকা ওই তিন কর্মী দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত। তাদের বিরুদ্ধে কোনো দিন কোনো অপকর্মের অভিযোগ পাননি। তবে, তিনি স্বীকার করেন, বাসে সিট খালি থাকলে মাঝেমধ্যেই রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা হতো। একইভাবে ঘটনার দিনও কয়েকজন যাত্রী তোলা হয়েছিল।

এই পরিবহন মালিক বলেন, যাত্রীর ছদ্মবেশে তারা যে ডাকাত ছিলেন, এটা কেউ বুঝতে পারেননি। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি বাসে থাকা সুপারভাইজার রাব্বীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ভোরে তিনি ডাকাতির ঘটনা জানতে পেরেছেন। পরে থানায় যোগাযোগ করেছেন। বাসটিসহ চালক, সুপারভাইজার, হেলপার এখনো পুলিশের হেফাজতে আছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়