প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২২, ০২:৫৩ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২২, ০২:৫৩ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যান্ত খানমরিচ ইউনিয়নে ৪৯নং মিথমৈথুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার শাস্তি ও অপসারণের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগ সূত্রে ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মিছমেথুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ইয়াছিন আলী ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিছু দিন পর থেকে তিনি নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতিতে  জড়িয়ে পড়েন। 

সরকারি টাকায় কেনা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন, অগ্নিনির্বাপক স্প্রে মেশিন, জ্বর মাপার থার্মোমিটার এবং ওজন মেশিনসহ স্কুলের  বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে  জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই আমার বাড়িতে রেখেছি। স্কুলে হাজিরা রেজিস্ট্রারে তার নিয়মিত উপস্থিতি থাকলেও  প্রধান শিক্ষক বেশিরভাগ দিনই স্কুলে অনুপস্থিতি থেকে সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে এসে পুরো সপ্তাহ স্বাক্ষর করে যান। এই সুযোগে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ পাঠদান এবং স্কুলে আসা-যাওয়া করছেন খেলায় খুশিমত। এ কারণে বিদ্যালয়টিতে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি শূন্যের দিকে যাচ্ছে।

অভিভাবক রতন আলী জানান, তাদের ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছে। কিন্ত প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে এসে পড়া লেখা বাদ দিয়ে খেলা-ধূলা আর গল্প-আড্ডা শেষে বাড়ি চলে যাচ্ছে। 

সরকারি নির্দেশনায় প্রতিদিন পাঠদানের আগে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, শপথ ও জাতীয় সংগীত বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংগীত ও সমাবেশ হচ্ছে না। বিদ্যালয় মাঠ চত্বরে দক্ষিণ পাশে প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনারটি খড়ের পালা এবং ময়লা-আর্বজনা দিয়ে ভরা। প্রায় সমস্ত প্রতিষ্ঠান চত্বর ময়লা-আর্বজনা আর গো-মহিষে আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ে স্থাপিত পানির ট্যাংকিটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকায় নোংরা পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রী পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি নিয়মে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নার, মুক্তিযোদ্ধা কর্নার, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টিনন্দন ছবিসহ সজ্জিতকরণ শ্রেণি কক্ষ সবই দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থার কারণে ধব্বংসের পথে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইয়াছিন আলী বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি আপনাদের কিছু বলবো না, যা পারেন আমার বিরুদ্ধে লেখেন। আমার কিছুদিন চাকির আছে।  
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়