সিলেটে ৫ দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে নগরবাসী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২, ০৫:৩২ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২, ০৫:৩২ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। বন্ধ রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে শুরু করে সব ধরনের যানচলাচল। তবে কিছু প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস বের হলেও পিকেটিং করে সেগুলো আটকে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সিলেটের ছয়টি রেজিস্ট্রার্ড সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভায় গত রোববার এই পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন জানান, পাঁচ দফা দাবিতে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আজ বুধবার থেকে পুরো সিলেট বিভাগে কর্মবিরতি পালন শুরু হবে। সকাল থেকে সিলেটের প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, টিলাগড়, বঙ্গবন্ধু মহাসড়কসহ বিভিন্ন মোড়ে ও নগরের প্রবেশ পথে অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা। ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ি এমনকি বিআরটিসি বাস চলাচলেও বাধা দিচ্ছেন তারা। শ্রমিকদের পিকেটিংয়ের কারণে কোনো গাড়িই সড়কে চলাচল করতে পারছে না।

নগরের ব্যস্ততম তালতলা, বন্দরবাজার ও কিনব্রিজের মোড় ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা পর্যন্ত সড়কে নেই। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দূরপাল্লার যাত্রীদের পাশাপাশি নগরের ভেতরে চলাচলকারী যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরেই পাঁচ দফা দাবিতে নগরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো। দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

আজ সকালে বিআরটিসি বাসে করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট আসেন শাব্বির আহমদ। নগরে প্রবেশের আগেই দক্ষিণ সুরমার আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরে তাদের বাস আটকে দেন সেখানে অবস্থান নেওয়া পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন তাতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলাচল করলে তারা বাধা দেবেন কেন? তিনি বলেন, বাস থেকে নামার পর এক ঘণ্টা এখানে দাঁড়িয়ে আছি। নগরে যাওয়ার কোনো বাহন পাচ্ছি না। মোটরসাইকেলের চালকরা রাইড না চালিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া চাচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ লাভলু নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে রাস্তায় নেমেও শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন। নগরের উপশহর এলাকায় তার গাড়ি আটকে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। তিনি বলেন, তারা কর্মবিরতি ডেকেছেন কিন্তু আমি তো আর পরিবহন শ্রমিক নই। আমি নিজের অফিস ও বাচ্চার স্কুলে যাওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। তারা কেন আমার গাড়ি আটকাবে? এটা তো মাস্তানি।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, সিলেটের বাইরের অনেক চালক কর্মবিরতির কথা জানেন না। না জেনেই তারা গাড়ি নিয়ে সিলেট চলে আসছেন। তাদের বুঝাতেই শ্রমিকরা কয়েকটি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। তবে কাউকে জোর-জবরদস্তি করা হচ্ছে না এবং ব্যক্তিগত গাড়িও আটকানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও আশ্বাসের মধ্যেই তাদের বারবার আটকে রাখছে প্রশাসন। একটি দাবিও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ময়নুল ইসলাম বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর আমরা এই দাবিগুলো জানিয়ে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে মানববন্ধন করেছি এবং গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। স্মারকলিপির অনুলিপি সিলেটের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরেও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় আমরা এ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।

পরিবহন শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে- সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ও উপ-কমিশনারের (ট্রাফিক) অপসারণ, ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি ও রেকার বাণিজ্যসহ মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বন্ধ করা, সিলেটে শ্রম আদালতের প্রতিনিধি শ্রমিক লীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী নাজমুল আলম রোমেনকে প্রত্যাহার, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, ভাঙাচোরা সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার এবং নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ ও বিক্রি করা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া। এছাড়া অনুমোদনহীন গাড়ি যেমন- ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ডাম্পিং করা গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়