সংবাদ সম্মেলন

মান্নান আকন্দকে বগুড়ার রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেটে প্রতিহতের ঘোষণা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ০৯:০৭ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২, ০১:১৩ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার বিতর্কিত ব্যবসায়ী শুকরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান আকন্দকে বগুড়ার রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেটে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি বগুড়ার রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেটের একজন চুক্তিভিত্তিক ঠিাকাদার মাত্র। চুক্তিতে আব্দুল মান্নান আকন্দকে শুধুমাত্র মার্কেট নির্মাণ ও কিছু দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশের এখতিয়ার দেওয়া হয়। ঠিকাদার হিসেবে আব্দুল মান্নান আকন্দের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু চুক্তি সম্পাদনের পরপরই আব্দুল মান্নান আকন্দ ওই জায়গায় দোকান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আজ বগুড়া প্রেসক্লাবে এমন অভিযোগসহ আব্দুল মান্নান আকন্দের বিরুদ্ধে নানা প্রতারণামূলক কর্মকান্ড ও সন্ত্রাসি কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। বগুড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সিমিতি লি. এর সহ-সভাপতি আবু জাফর মো. মাহমুদুন্নবী রাসেল এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তসমূহ বার বার ভঙ্গ করা, অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় আব্দুল মান্নান আকন্দের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই মার্কেট সংক্রান্ত তার সাথে যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তার সকল প্রতারণামূলক ও সন্ত্রাসি কর্মকান্ডের বিচারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারিদের কল্যাণের জন্য স্টেশন রোড সূত্রাপুর বগুড়ায় অব্যবহৃত রেলভূমির ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৭ বর্গফুট জায়গা লিজ নেয়া হয়। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেট নামে একটি বহুবিধ সুপার মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত করা হয়। জায়গাটি কল্যাণ ট্রাস্টের নামে লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট’র তৎকালীন পরিচালক তার বড় ভাই হায়দার আলী সরকার মূখ্য ভূমিকা পালন করায় মার্কেটটি বাস্তয়নের জন্য বগুড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মার্কেটটির নির্মাণ করতে সমিতি আব্দুল মান্নান আকন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শুকরা এন্টারপ্রাইজের সাথে একটি চুক্তি করে। চুক্তিতে আব্দুল মান্নান আকন্দকে শুধুমাত্র মার্কেট নির্মাণ এবং কিছু দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করার এখতয়িার দেয়া হয়, তার দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। কিন্তু চুক্তির পরপরই আব্দুল মান্নান দোকান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করে।

এসময় অভিযোগ করে বলা হয়, মার্কেটটিতে ৮৬১টি দোকান ঘর নির্মিত হবে। এরমধ্যে ৯টি আলাদা ব্লকে ১৬০ বর্গফুট, ১২০ বর্গফুট ও ৮০ বর্গফুট পরিমাপের তিন সাইজের দোকান রয়েছে। যেগুলো আব্দুল মান্নান মাস্টার প্লানের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো দোকান নির্মাণ করেছেন। ১২০ এবং ১৬০ বর্গফুটের দোকান ভেঙে এবং পার্টিশান দিয়ে একটি দোকান দু’টি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তিনটি পর্যন্তও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মার্কেটটিতে মোট ৮৬১টি দোকানের বিপরীতে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হবে এর বাইরে কোনভাবেই দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আব্দুল মান্নান সহস্রাধিক মানুষের কাছে প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং তাদেরকে দোকান বুঝে দেওয়ার জন্য যত্রতত্র নকশা বহির্ভূত দোকান ঘর নির্মাণ করতে থাকে। তাকে নকশা বহির্ভূত দোকন ঘর নির্মাণ না করার জন্যে মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা না শুনে নকশা বহির্ভূত দোকান ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখেন। সবশেষে পার্কিং প্লেসে দোকান নির্মাণ শুরু করলে নানাভাবে তাকে বাধা প্রদান ও একাধিকবার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে সতর্কও করা হয়। কিন্তু তিনি পার্কিং প্লেসে প্রায় শ’খানেক দোকান ঘর নির্মাণ করেন এবং মানুষদের সেখানে দোকান দেওয়ার কথা বলে আনুমানিক চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। অথচ বরাদ্দ তো দূরের কথা পার্কিং প্লেসে দোকান নির্মাণের কোন প্রশ্নই আসে না। এছাড়াও মার্কেটে রেলওয়ে পোষ্য কোটায় সংরক্ষিত দোকানসমূহের মধ্যে বেশিরভাগ দোকানই বরাদ্দপ্রাপ্তদের বুঝে না দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। পাশাপাশি পোষ্য কোটার যে সমস্ত দোকান সমিতির মাধ্যমে বুঝে দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও তার বাহিনী তালা ভেঙে লুটপাট করে জোর করে দখল করেছেন। এ বিষয়েও ভুক্তভোগীগণ নানান মহলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট দপ্তরেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নানা অপকর্মের অভিযোগের পাহাড় তৈরি হলে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ কল্যাণ ট্রাস্ট ৫৯তম বোর্ড সভায় বগুড়া মার্কেটের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) একটি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আব্দুল মান্নান আকন্দের নির্মাণকৃত অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে। এখানে সমিতির কোন রকমের দায়-দায়িত্ব নেই।

এসময় আরও বলা হয়, অভিযানে যে সমস্ত দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে সেগুলোর কোন বৈধতা নেই। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন আব্দুল মান্নান আকন্দ বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। অন্যদিকে আব্দুল মান্নান আকন্দের সরাসরি অংশগ্রহণ ও নির্দেশে উক্ত মার্কেটের সেলিনা হোটেলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যার স্বত্ত্বাধিকারী তার বড় ভাই মো. হায়দার আলী সরকার। এসময় তার বড় ভাতিজা রায়হান কবিরকে আব্দুল মান্নান আকন্দের নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসিরা হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

শেষে সমিতির পক্ষ থেকে পববর্তী করণীয়সমূহ নির্ধারণ করে বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবিরের উপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। এখন থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমিতির সম্পাদিত সমস্ত চুক্তি বাতিল করা হল (প্রক্রিয়াধীন)। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অত্র মার্কেটে আর কোনরূপ নির্মাণ কাজ করতে পারবে না। পার্কিং এর জায়গায় যাতে পুনরায় কোনরূপ দোকান নির্মাণ করতে না পারে সে বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোভের কারণে যে সমস্ত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কেটের যেসমস্ত অসমাপ্ত কাজ রয়েছে তা সমিতির অর্থায়নে সমিতি কর্তৃক নির্মাণ করা হবে, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সমিতিকে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সন্ত্রাসি বাহিনীর কোন সদস্যকে মার্কেটের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তারপরও যদি জোর করে কেউ প্রবেশ করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সব শেষে মার্কেটের ব্যসায়ীগণ শান্তিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা করবেন, বহিরাগত বা সন্ত্রাসিরা কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করলে সাথে সাথে সমিতিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়