ভাগ্য বদলের ফসল আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৮:৪০ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৮:৪০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু রোপণ, বাজারজাত ও বেশি দাম পাওয়ার আশায় এবার একটু আগেভাগেই শুরু করেছেন চাষিরা। আগে আলু চাষের জন্য সাময়িক পতিত রাখতো এ জমি গুলো। এবার ওই জমিগুলো সাময়িক পতিত না রেখে আউশ চাষ করে বাড়তি অর্থ পেয়েছে কৃষক। তাই আউশের পর আলু চাষটি বোনাস ফসল হিসেবে মনে করছে কৃষকরা। এ অঞ্চলের কৃষকের ভাগ্য পরির্বতনের ফসলখ্যাত আগাম আলু রোপণে জোরেসোরে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা। আগাম ধান কাটা ও আগাম আলু রোপণ যেন, আগাম শীতের বার্তাই বহন করছে। 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এক সময় কাঁশবন আর ধু ধু বালুতে ভরপুর ছিল। সে জমিগুলো ধীরে ধীরে চাষের জমিতে পরিণত করেছেন কৃষকরা। এক সময়ের বালু ভরপুর জমিগুলো এখন উচুঁ-বেলে-দোআঁশ মাটি পরিণত হয়েছে। এ মাটিতে ৩ থেকে ৪ ফসলা জমিতে রূপ নিয়েছে। এ যেন সোনা ফলানো মাটি।  এ এলাকায় ভাগ্য বদলের ফসল হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে আগাম আলু। এ স্বপ্নের ফসল রোপণে জমিতে জমিতে সার ছিটানো, পরিচর্যা, বীজ প্রক্রিয়াজাত করছে দিন-রাত ধরে। ইতোমধ্যে অনেক আলু চাষি আলু রোপন শুরু করেছেন। যেন কৃষকদের দম ফেলানোর কোন সময় নেই। ব্যস্ত আর আনন্দে দিন কাটছে চাষিদের। 

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় এ বছর আউশ ধান চাষ হয়েছে ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। ধান কাটা মাড়াই শেষে এসব জমিতে আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর বিঘায় ১২ থেকে ১৩ বস্তা করে আলু উৎপাদন হয়েছে। বিঘা প্রতি লাভ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। 

গত সোমবার রণচন্ডী ইউনিয়নের আলুচাষি ফরিদুল ইসলাম ৭ বিঘা, মুজাম্মেল হক ৫ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন। তারা জানান, গত বছর ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে আগাম আলু বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৪০ হাজার টাকার উপরে লাভ করেছেন। তারা আরও জানান, আগাম আলুর বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় দাম বেশিই পাওয়া যায়। এবারও তারা লাভের মুখ দেখার জন্য আগাম আলু রোপণ করেছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, গত বছর আলু চাষ হয়েছিল ৪ হাজার  শ’ হেক্টর জমিতে। চলতি বছরে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমি,  যা গত বছরের চেয়ে ১শ’ হেক্টর বেশি। আগাম আলু উৎপাদনে এ উপজেলার খ্যাতি দেশব্যাপি। বাজারে আগাম আলুর বেশ চাষিদা থাকায় চাষিরা বেশি মূল্য পেয়ে থাকেন। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়