বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু’র অভিযোগে ক্লিনিক ঘেরাও

প্রকাশিত: অক্টোবর ০১, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর
আপডেট: অক্টোবর ০১, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সিয়াম (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে বগুড়া শহরের পিটিআই লেনে আলিফ জেনারেল হাসপাতাল ক্লিনিকে সিয়াম মারা যায়। ভুল ইনজেকশন পুশ করে সিয়ামকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে তার স্বজনরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ওই ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, সিয়ামের অন্ডকোষের পাশে উরুতে ফোঁড়া ওঠে। এতে সে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছিল। তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসককে দেখানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পরে সেখানে সিয়ামের চামড়ার নিচে টিউমার ধরা পড়ে। সেটি দ্রুত অপারেশন করে অপসারণ করতে পরামর্শ দেয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিয়ামের পরীক্ষাশেষে আলিফ জেনারেল হাসপাতাল ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার রাতে ভর্তি করানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার সিয়ামের অপারেশনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর ইনজেকশন করার পর সিয়ামের আর জ্ঞান ফিরেনি। এ সময় রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর রোগীর জ্ঞান ফিরলে অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর আগেই রোগী মারা যায়। এদিকে রোগী মারা যাওয়ার খবরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত লোকজন ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে শহরের বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই ক্লিনেকে উত্তেজনা দেখা দেখা দিলে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় ওই ক্লিনিকে কোন চিকিৎসক ও নার্স বা কর্মচারীদের পাওয়া যায়নি। তারা পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ক্লিনিকটির পরিবেশ নিম্নমানের। পরে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে তার পরিবারকে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু স্বজনরা কোন অভিযোগ দিবে না এবং মরদেহ ময়না তদন্ত করাবে না বলে জানায়। যে কারণে আর কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।

ইন্সপেক্টর তারিকুল আরও বলেন, ওই ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অজ্ঞানের ডাঃ নাকিব ও ডা: হালিম উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে। তবে তাদের সাথে দেখা বা কথা হয়নি। সেইসাথে ওইরাতে আলিফ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে নিহত কিশোরের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ না করায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিয়াম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার পারটেকুর গ্রামের সিএনজি চালক ইয়াকুব আলীর ছেলে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়