সরাইলে ব্যক্তিমালিকানা ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৬:০১ বিকাল
আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৬:০১ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা ভূমি নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি জবর দখল এমনকি সরকারি রের্কডের সড়কও দখলে নিয়ে সেখানে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও পূর্ব নোটিশ না দিয়ে ঘর ভেঙ্গে ফেলে এবং কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে ফেলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ার সময় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের বড় ভাই আইয়ুব হোসেন উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলে জেলা প্রশাসন ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় মো. ছিদ্দিকুর রহমান ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে ১৬ শতক ডোবা ও ২১ শতক বাড়ি কিনেন। পরে তিনি ডোবা ভরাট করে ঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেন। সম্প্রতি গত ১৬ নভেম্বর অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন তার ব্যাক্তিমালিকানার জায়গায় খাস জমি আছে এমন দাবি করে কোন পূর্ব নোটিশ না দিয়ে ঘর ভেঙ্গে ফেলে এবং কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে ফেলে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। গাছকাটা এবং ঘর ভাঙ্গার পুরো প্রক্রিয়ার সময় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের বড় ভাই আইয়ুব হোসেন উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাড়ির কেয়ারটেকার ফরিদুল হক বলেন, যদি এখানে খাসের জায়গা থাকে আমরা দিয়ে দিব। কিন্তু তারা আমাদের না জানিয়ে, কিছু না বলে রাতের আঁধারে ঘর ভেঙ্গে, গাছপালা কেটে ফেলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি বলেন, ২৫-৩০ বছর আগের জায়গা আজ হঠাৎ করে খাস হয়ে গেছে। ঘর ভাঙ্গার কারণে এখন আমরা কয়েকটা পরিবার অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছি।

এদিকে শুধু এ জমিই নয়। এরপাশে জেলে পল্লীর সরকারি রেকর্ডের রাস্তাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত বলে প্রস্তাবনা দিয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান। এর প্রতিবাদ জানিয়ে এবং এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ না করতে সজীব দাস নামে এক ব্যক্তি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছে। আবেদন পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২২০২ নং দাগের এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যাতায়াত করে এবং একটি পানি নিষ্কাশনের ড্রেন রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের ইচ্ছায় এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের বাজারে আসা যাওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যহত হবে।

অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, খাস জমি নির্ধারণে চেয়ারম্যান অনিয়ম করছেন। তিনি গরীব ও দুর্বল মানুষদের বাড়ির জায়গার খাস আছে কিনা তা বের করতে যতটুকু তৎপর ক্ষমতাবান ও ধনী লোকদের ক্ষেত্রে ততটা নন। খাস জমি বের করলে পুরো ইউনিয়নের সব খাস জমিই বের করা হোক। চেয়ারম্যান বাণিজ্য করছে। লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে তার পছন্দের তালিকা দিচ্ছে। আমরা সরকারি দলের লোক হয়েও তালিকায় কাদের নাম দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু জানি না। প্রশাসনের লোকজনকে এনে হাঁস পার্টি করে তিনি খাস জমি বের করছেন। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন হোক।

অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে বলেন, গাছ কাটা কিংবা উচ্ছেদ কোনটাই তিনি করেন নি। সরকারি জায়গা সরকারের লোকজন উচ্ছেদ করেছে। তবে তার ভাইয়ের উপস্থিত থাকা “কৌতুহলবশত” বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ঘটনা খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন জানান, তিনি নতুন এসেছেন। ভূমি নির্বাচনসহ সামগ্রিক কাজ আগের ইউএনও করে গেছেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়