গারো পাহাড়ে মধু সংগ্রহের ধুম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৭:৫৮ বিকাল
আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৭:৫৮ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

জামালপুর সংবাদদাতা:  জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে চলছে মধু সংগ্রহের ধুম। মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত পুরো পাহাড়ি এলাকা।  মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ চাষিরা। গাছের ফাঁকে রাখা আছে সারিবদ্ধ মৌমাছির বাক্স।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ধশতাধিক মৌ চাষি এসেছেন মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।

জানা যায়, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য বকশীগঞ্জ আসেন। বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে ছড়িয়ে থাকে হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষাক্ষেত। গ্রামের পর গ্রামে হলুদ ফুলের টানে ছুটে আসে মৌমাছির দল। সরিষাক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন মৌ চাষিরা। তবে চলতি বছরে সরিষায় এখনো ফুল ফোটেনি। ডিসেম্বরের শুরুতে তারা সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করবেন। এখন গারো পাহাড়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অর্ধশতাধিক মৌ খামারি কয়েক হাজার মৌ বাক্স নিয়ে অস্থায়ী বসতি গড়েছেন গারো পাহাড়ে।  

সাতক্ষীরা থেকে খামারি রবিউল ইসলাম জানান, চার শতাধিক মৌ বাক্স রয়েছে তার। সেখান থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করবেন তিনি। প্রতি বাক্স থেকে কমপক্ষে পাঁচ কেজি মধু পাওয়া যাবে।

বগুড়ার মৌ খামারি মহসীন আলী এক সপ্তাহ আগে তার দল ও তিন শতাধিক মৌ বাক্স নিয়ে এখানে এসেছেন। পাহাড়ে মধু সংগ্রহ শেষে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন তারা। সরিষা ফুল শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন। এখান থেকে ২০০ মণ মধু সংগ্রহ করবেন।

তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে একবার করে বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করেন। একটি বাক্স থেকে প্রতিবার প্রায় চার-পাঁচ কেজি মধু পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মধু এখান থেকেই ৬০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অনেক সময় এর চেয়ে আরো বেশি দামে বিক্রি হয়। তবে সরিষা ফুলের মধুর দাম কিছুটা কম হয়।

নরসিংদী থেকে আসা মৌ চাষি রিয়াজুল জানান, মৌমাছিরা মধু এনে বাক্সে জমা করে। সপ্তাহে এক দিন মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাক্স থেকে তিন থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ মৌসুমে একটি বাক্স থেকে সাত-আট কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এই মৌ খামারি জানান, মাঠে সরিষা ফুল ফোটার শুরুতে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাস থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। আগাম চলে আসায় এখন গারো পাহাড়ে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌ চাষ শৌখিন ও লাভজনক হওয়ায় বাড়তি আয় ও পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মধু চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

বালিঝুড়ি রেঞ্জের ডুমুরতলা বিট কর্মকর্তা আবু হাসেম চৌধুরী বলেন, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার ফুল জন্মে। আর সেখান থেকেই মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। তাই গারো পাহাড় মধু চাষের উপযুক্ত স্থান। এখানে কেউ মৌ চাষ করে মধু উৎপাদন করতে চাইলে বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে তা করতে পারেন। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়