আগামীকাল কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, বীরগঞ্জ, বিরামপুর বোচাগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০৫, ২০২২, ১১:২৮ রাত
আপডেট: ডিসেম্বর ০৫, ২০২২, ১১:২৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মফস্বল ডেস্ক: আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বিরামপুর, বোচাগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। এদিনটি পালনের জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

কুড়িগ্রাম: আগামীকাল ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাংলার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে কুড়িগ্রামকে স্বাধীন করে। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ৬ ডিসেম্বর না হলেও সেদিনই বাংলার দামাল ছেলেরা কুড়িগ্রামকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ খচিত পতাকা উত্তোলন করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গোটা কুড়িগ্রাম জেলা ছিল ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন। একমাত্র রৌমারী উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঐ থানার অধীন রৌমারী অঞ্চল মুক্তাঞ্চল হিসেবে থেকে যায়। পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য সেখানেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়।

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রামের রাজারহাটকে পাক-হানাদার মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় র‌্যালি, পুস্পস্তবক অর্পণ ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর): আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর বীরগঞ্জ পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস। এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বীরগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে মুক্তি বাহিনী এবং মিত্র বাহিনীর যোদ্ধারা। পাশের জেলা ঠাকুরগাঁও ৩ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর (পাক বিহার) অভিমুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। হানাদার বাহিনী বীরগঞ্জ থেকে পিছু হটে বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা সীমান্তের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে ভাতগাঁও ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়। এখানে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধে ভাতগাঁও ব্রিজের একাংশ ভেঙে যায়। এ সময় বেশ কিছু মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বীরযোদ্ধা শহীদ হন।

বিরামপুর (দিনাজপুর): দেশ ও স্বাধিকারের টানে আমাদের দামাল ছেলেরা যৌবনের দূরন্ত সময়ে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের কবল থেকে ৬ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলার বিরামপুরকে মুক্ত করে। ভারতের কালিয়াগঞ্জ তরঙ্গপুর ক্যাম্পে বিরামপুর উপজেলার ২৭৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নেয়। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ৯মাস যুদ্ধ করে ৬ জন শহীদ ও ১৫জন গুরুতর আহত হয়। অবশিষ্ট বীল মুক্তিযোদ্ধারা অবশেষে পাকবাহিনীকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে ১৯৭১এর ৬ডিসেম্বর বিরামপুরকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে।

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর): আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বোচাগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি  হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শত্রুমুক্ত করেছিল বোচাগঞ্জের মাটি। দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সু-সংগঠিত করেন বোচাগঞ্জের কৃতী সন্তান সাবেক প্রতিমন্ত্রী তৎকালীন তাজউদ্দীন সরকারের বিশেষ দূত আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আব্দুর রৌফ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা হামিদ খান ভাষানির ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম আনোয়ারুল হক চৌধুরী নবাব।

এছাড়া বোচাগঞ্জের ১১৫ জন দামাল ছেলে ও আনসার থেকে আগত একজন সহ মোট ১১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে বোচাগঞ্জকে হানাদার মুক্ত করেন।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর):  আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর দখল থেকে এই দিনে ভোরে মিত্র বাহিনী নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকাকে হানাদার মুক্ত করে। টানা ৯ মাস যুদ্ধ চলাকালে এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ৭নং সেক্টরের অধীনে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর তীব্র আক্রমনের শিকার হয় পাক হানাদার বাহিনী। তারা আক্রমনের কারণে টিকতে না পেরে পিছু হটতে থাকে। এক পর্যায়ে উপজেলার ভাদুরিয়া নামক স্থানে পাক হানাদারদের সাথে মিত্র বাহিনীর তুমুল লড়াই হয়। সেখান থেকে পাক হানাদাররা মিত্র বাহিনীর নিকট পরাজিত হবার আশঙ্কায় পিছু হটতে হটতে ঘোড়াঘাট এলাকায় যায় এবং সেদিনই নবাবগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়