রমেক পরিচালকের অপসারণের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৪:১২ দুপুর
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৬:১৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

রংপুর প্রতিনিধি : দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালকের অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। বিক্ষোভ শেষে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। এ সময় পরিচালককে অপসারণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার দুপুরে পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. রাকিবুল হাসান তারেক, সাধারণ সম্পাদক ডা. কিশোর হাসান ও  রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি শাহীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়নসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. কিশোর হাসান জানান, ২৬৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা রংপুর বিভাগের মানুষকে সেবা দিয়ে আসছেন। অথচ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। পরিচয় পত্র নেই, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ করা হোস্টেলে থাকার জন্য বেড, বিছানাও পানির ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে অনেকবার পরিচালকের কাছে তুলে ধরলেও কোনো সুরাহা না করে উল্টো খারাপ আচরণ করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। আমরা এসবের দ্রুত সমাধান চাই। 

এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি শাহীন ইসলাম জানান, পরিচালক দায়িত্বে আসার পর থেকেই নানা অজুহাতে কর্মচারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে, সেই সঙ্গে লাগামহীন দুর্নীতি করছেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মোবাইলে চাকরিচ্যুত করার ম্যাসেজ করে হুমকি দেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি, এরমধ্যে অপসারণ না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান জানান, তারা স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা অভিযোগের বিষয়গুলো দেখছি। পরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে বসে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তা দেখা হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসান জানান, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করায় হাসপাতালের বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মচারী অফিস সহায়ক মামুনুর রশীদ ও আশিকুর রহমান নয়নকে হাসপাতাল চত্বরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একটি আদেশনামা জারি করেছিলাম। আমি দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মচারী-ঠিকাদার সিন্ডিকেট ভেঙেছি বলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনিয়মতান্ত্রিক কাজে বাধা দেওয়ায় তারা আমার অপসারণ চাইছে। আমি যত দিন দায়িত্বে রয়েছি, তত দিন কাউকে অনৈতিক কাজ করতে দিবো না। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়