নিয়োগ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৫:৩১ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৫:৩১ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা। একারণে ভুক্তভোগীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

জানা যায়, ক’মাস আগে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে লোক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। সে অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার ১৫ জন ওই পদে নিয়োগ পেতে লিখিত আবেদন করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান শিক্ষক এক প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে টাকা গ্রহণ করছেন- এমন একটি ভিডিও ফাঁস হয়। ৩৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে তার টাকা নেয়ার পাশাপাশি কোথায় কোথায় কত টাকা ঘুষ দিতে হবে সে নির্দেশনাও দেন প্রধান শিক্ষক। এছাড়া ওই ভিডিওতে তিনি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘সভাপতি তার আপন ভাতিজা শহিদুজ্জামান সুইটকে ওই পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু জানাননি।’ ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তার প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি নেয়ার বিষয়টি বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যরা দফায় দফায় ঘুষ নিয়েছেন। তবে তিনি নাছোড়বান্দা ছিলেন বলেই রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সবাই জেগে থেকে তার নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন।’ 

এমন ভিডিও প্রকাশের পর সর্বত্রই তোলপাড়ের সৃষ্টি হলে ৯ জানুয়ারি অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারীদের ৯ জন নিয়োগ স্থগিতসহ বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এরই সূত্র ধরে ১১ জানুয়ারি দৈনিক করতোয়ার অনলাইন ভার্সনে সর্বপ্রথম একটি খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সনেও খবরটি প্রকাশিত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম শহিদুল ইসলাম শুধু বলেন, ভিডিওসহ সকল ডকুমেন্ট আমার হাতে রয়েছে। তাই ওই বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ে ৪ জন পিয়ন এমনিতেই কর্মরত রয়েছেন। নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

এদিকে ভুক্তভোগি শাহীনুর, রিয়াজুল ও রায়হান বলেন, প্রধান শিক্ষক স্বপদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। একারণে তার অপসারণ দাবি করছি।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক বলরাম রায় ও সভাপতি আব্দুল মমিন অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করলেও তারা শুধু বলেন, শহিদুজ্জামান সুইটকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়