সিলগালা করে রাখা গুদামের চাল চুরির ঘটনায় জড়িত নৌকার মাঝি গ্রেফতার

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৮:৪৫ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৮:৪৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দিতে জব্দকৃত ১১৩০ বস্তা চালসহ সিলগালা করে রাখা গুদামের চাল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন নৌকার মাঝিকে গ্রেফতার করেছে সারিয়াকান্দি থানার পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নৌকার মাঝি পৌর এলাকার বাগবেড় গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রিপন মিয়া (৩০)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দিতে আলোচিত সিলগালা করে রাখা চাল চুরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে রিপনের নৌকা। যা তদন্তে প্রতীয়মান হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার উপজেলার সারিয়াকান্দি নৌঘাটে অভিযান চালিয়ে রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর রাতে সারিয়াকান্দি নৌঘাটে রিপনের নৌকায় ২০০ বস্তা চাল লোড করা হয় এবং পরদিন সকালে উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতমারা ঘাটে তা নামিয়ে দিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, নৌকার মাঝি রিপন কার কাছে চালগুলো হস্তান্তর করেছে তা আমরা জানতে পেরেছি। তবে তদন্তের সার্থে তার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজেশ কুমার চক্রবর্তী জানান, আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে চালচুরির কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আসামীকে বগুড়া জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের একটি ব্রিজের নিকট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৬০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে । এ ঘটনায় চাল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ১ টি ট্রাকসহ তার মালিক আছাব্বর ফকিরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া গত ১ জানূয়ারি গ্রেফতার হয়ে চাল চুরির দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পৌর এলাকার বাগবেড় গ্রামের মৃত নুরু প্রাং এর ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫), আন্দরবাড়ী গ্রামের তোফা ফকিরের ছেলে রুসাত ফকির (২৮) এবং সোনা মিয়ার ছেলে রায়হান কবির (২৭)।

জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর  সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার বাগবেড় গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা শাহাদৎ হোসেন এর নির্মানাধীন বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম। অভিযান শেষে বাগবেড় গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে শাহীন আলম এর নিয়ন্ত্রনে থাকা ১১৩০ বস্তা চাল জব্দ করে গুদামটি সীলগালা করে এবং ক্রয় বিক্রয়ের রশিদ না থাকায় ও কৃষি বিপণন লাইসেন্স না থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এর অনুলিপি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়েও প্রেরণ করা হয়। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উক্ত গুদামে উপস্থিত হয়ে সিলগালা খোলেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম। গুদাম পরিদর্শন কালে মাত্র ৬ বস্তা চাল তিনি দেখতে পান। ফলে গুদামটিতে থাকা ১১২৪ বস্তা চাল উধাও হওয়ার ঘটনার সূত্রপাত হয়।

যার ওজন ৩৩ হাজার ৭২০ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা। পরে গুদামটি আবারো সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২৩ ডিসেম্বর সিলগালা করে রাখা গুদামের চাল চুরির অভিযোগে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে সারিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেওয়ান আতিকুর রহমান।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়