আগামীকাল ধান বিক্রির সভা

মজুদদারদের কারণে ধান চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছেনা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৯:২৬ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ০৯:২৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া সদরের মানিকচক এলাকায় তানভীর ফুড লিমিটেডের নির্মাণাধীন অটো রাইস মিলে অবৈধ ভাবে মজুদ করা ২ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন জব্দ করা ধান বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর আগামীকাল মঙ্গলবার জব্দকৃত ধান বিক্রয় করার জন্য বিক্রয় কমিটি সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদে জরুরী সভায় মিলিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা কৃষি অফিসার, বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে করা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ধান বিক্রি করা হবে। বগুড়া সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে গত ২৩ ডিসেম্বর বগুড়া সদরের মানিকচক এলাকায় তানভীর ফুড লিমিটেডের নির্মাণাধীন অটো রাইস মিলে অবৈধ ভাবে মজুদ করা ২ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন জব্দ করা ধান বিক্রি করে সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যমানের এই ধান জব্দ করার একদিন পরই মজুদ দারীর দায়ে মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা কামাল ও তানভীর ফুড লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম প্রকৌশলী কেতাউর রহমানকে অভিযুক্ত  করে  মামলা করা হয়। এদিকে ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনার ২৭ দিন পর বগুড়ার শেরপুরে অভিযান চালিয়ে এসিআই গ্রুপের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিকটন ধান চাল জব্দ করা হয়েছে।

চাল জব্দ করার পর   উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মামুন-এ-কাইয়ুম বাদি হয়ে এসিআই ফুড লিমিটেডের (রাইস ইউনিট) স্বত্বাধিকারী আরিফ দৌলা (৪৫), এসিআই ফুডের সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩০), শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী শামীমা ইসলাম (৫০) এবং এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক এনামুল হক (৫২)এর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।

মামলা করার পর আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) মামলার বাদী জব্দকৃত ধান চাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। মামলার বাদী মামুন-এ-কাইয়ুম জানান, তিনি জব্দকৃত ধান চাল পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন,পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

অন্যদিকে বগুড়া সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল হক জানান বগুড়ার দুটি গোড়াউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭ হাজার মেট্রিকটন ধান চাল জব্দ করার পর বগুড়ার মজুদদাররা ভয়ে রয়েছে। ধান চাল জব্দ করার পর ধানের বাজারে দাম কমে গেছে ২৩ ডিসেম্বর মেঘনা গ্রুপের ধান আটকের পর বগুড়ায় ধানের বাজার প্রতি মনে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে।

বগুড়ায় মোটা ধানের দাম ১২শ টাকা থেকে কমে সাড়ে ১১শ থেকে ১১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। মজুদদারীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত থাকলে ধান চালের দাম আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

মজুদদারের কারণে ধান চাল সংগ্রহ ব্যহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান দেশে ৩ লাখ মেট্রিকটন ধান এবং ৫ লাখ মেট্রিকটন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৩ শ টন ধান এবং ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন চাল ক্রয় করা হয়েছে। বগুড়ায় ১০ হাজার ২২২ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে মাত্র ১ টান ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ২৬ হাজার ২১ মেট্রিকটন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্র থাকলেও এপর্যন্ত ১১ হাজার ২শ মেট্রিকটন চাল কেনা হয়েছে।

মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে অবৈধ মজুদদারদের ধান চাল জব্দ করা হলে বাজারে ধান চালের দাম কমে যাবে। তখন সরকারের ধানচাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়