ডিমলার পশ্চিম ছাতনাই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুয়া প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ১০:১২ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ১০:১২ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই  ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ জন সদস্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

অভিযোগে জানা যায়, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে কাগজে-কলমে সামাজিক ও গ্রামীণ উন্নয়নমূলক (এলজিএসপি, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল, গ্রামীণ অবকাঠামো) নানা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ করা হয়নি। ভুয়া প্রকল্প বা একই প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক সরকার। বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজই করা হয়নি। পাঁচ-ছয়টিতে নামমাত্র কাজ হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ৬টি ইউড্রেন নির্মাণের জন্য ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে নজরুলের বাড়ির সামনে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি ইউড্রেন ও মজির উদ্দিনের বাড়ির পাশে রাস্তায় ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ইউড্রেন নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাস্তবে সেই ইউড্রেনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অথচ কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। ৩নং ওয়ার্ডে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই ময়নুলের বাড়ির পাশের নামমাত্র প্যালাসাইটিং নির্মাণ করে একই প্রকল্পে দুই দফায় ৭ লাখ ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আইয়ুব খা ও মুক্তাবেগমের বাড়ির রাস্তার পাশে পুকুরে প্যালাসাইটিং এবং রাস্তার ভাঙ্গায় আরসিসি রিং পাইপ স্থাপন করার জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি চেয়ারম্যান নিজেই।

কিন্তু কাজ না করেও কাগজে-কলমে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। একই অর্থ বছরে ইউনিয়নের হাট বাজার থেকে পাওয়া অর্থের ৪৬ ভাগ অর্থ ইউপি সদস্যদের সম্মানি বাবদ ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯২০ টাকা খরচ দেখানো হয়। ৩নং ওয়ার্ডে সুফিয়ারের দোকানের পাকা রাস্তা হতে নাজমুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও প্যালাসাইটিং নির্মাণের জন্য টিআর প্রকল্পের ৫ মেট্রিক টন ৪০০ কেজি চাল বরাদ্দ হলেও এখানে কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য রশিদা বেগম বলেন, ‘কাজ না হলে বিল কিভাবে দিলো? কোথায় কবে কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন’। ইউপি সদস্য নুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, মামুনুর রশিদ বলেন, ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পার হলেও এ পর্যন্ত আমরা পরিষদ থেকে কোন সম্মানিভাতা পাইনি।

ইউপিতে কখন কিসের বরাদ্দ আসে, তার কোনো মাসিক সভা, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড না থাকায় তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ইউপি সচিব আনিসুর রহমান বলেন, আমি গত পাঁচ মাস থেকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বেশিরভাগ প্রকল্প আমার যোগদানের আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে পশ্চিম ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক সরকার বলেন, কয়েকজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্র করে আমার  বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ইউপি সদস্যদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়