তাড়াশে একমাস হলো বন্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ০২:০৪ দুপুর
আপডেট: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ০২:০৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পল্লীতে গর্ভীবতী মা, শিশুসহ সাধারণ লোকজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সবুজপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি। গত একমাস হলো  কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় এলাকার গর্ভীবতী মা, শিশুসহ সাধারণ লোকজন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হলেও দেখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে আরও নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক। পাশাপাশি ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে একযোগে নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাবেক ২৫টি ওয়ার্ডে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারই একটি হচ্ছে সবুজ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক।

এ দিকে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, বর্তমানে স্থাপন হওয়া ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক এখনও চালু হয়নি। এ কারণে ওই সাবেক ২৫টি ক্লিনিকে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ২৩ জন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালানো হচ্ছে। তবে সবুজপাড়া ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ীভাবে কোন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার নেই। যে কারণে ২৩ জন সিএইচসিপিদের মধ্যে থেকে ৩ জনকে মূল কর্মস্থল ছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে একদিন করে সবুজপাড়া ক্লিনিকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া আছে। 
অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই ৩ জন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) গত এক মাস যাবত সবুজপাড়া ক্লিনিকে কোন দায়িত্ব পালন করেননি এমনটি অভিযোগ করেছেন সবুজপাড়া এলাকার আব্দুল কাদের, রোস্তম আলী, শেফালী খাতুনসহ অনেকেই। 

সবুজপাড়া ক্লিনিকের পাশের মুদি দোকানি এনামুল হক জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে একদিন দু’দিন ক্লিনিকটি খোলা হলেও গত প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন যাবত একবারও আর কমিউনিটি ক্লিনিকটি খোলা হয়নি।

পাশের একই গ্রামের আফরোজা খাতুন জানান, তার গভবর্তী পুত্রবধূকে সবুজ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গত দুই সপ্তাহে তিন দফায় নিয়ে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। কেননা সবুজপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ ছিল। 

অপরদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার কয়েকজন সংবাদকর্মী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ও শনিবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, সবুজপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে গত এক মাসে সবুজপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে এলাকার কোন লোক স্বাস্থ্যসেবা পাননি সংবাদকর্মীদের কাছে এমনটি অভিযোগ করেছেন চরকুশাবাড়ি গ্রাম এলাকার শাহিনুর বেগম, ফতেজান, বাহদুর আলীসহ একাধিক এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সবুজ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হামকুড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি একাই না হিমনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের নিলুফা খাতুন ও নাদোসৈদয়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকের আব্দুল আলীম পর্যাক্রমে কয়েকদিন করে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে এখন আমার দায়িত্ব নেই। একই সুরে কথা বলেন নিলুফা খাতুন ও আব্দুল আলিমও। 

অবশ্য, তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. শাহ আলম এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এক মাস নয় ১৫ দিন যাবত ক্লিনিকটি বন্ধ রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখন উপজেলায় ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকূলে ২৩ জন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মরত আছেন। তাই দুটি ক্লিনিকে তাদেরকেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) প্রশিক্ষণ ও ছুটিতে থাকায় ক্লিনিকটি বন্ধ ছিল। 

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোনোয়ার হোসেন বলেন, সবুজ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে স্থায়ী কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি দু’একদিনের মধ্যেই এর সমাধান হয়ে যাবে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়