সেবা নিতে জনপ্রতিনিধির দ্বারে জনগণ

ইউপি ভবন থাকলেও সেখানে বসেন না চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৬:৫৫ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৭:২৩ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দিতে নিজস্ব ইউপি ভবন থাকলেও সেইসব ভবনে বসছেন না চেয়ারম্যানরা। ফলে সুনশান নিরবতায় কাঁদছে ভবনগুলো। এদিকে নাগরিক সেবা পেতে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। এগুলো হলো উপজেলার কাজলা ইউপি ভবন এবং ভেলাবাড়ী ইউপি ভবন।

সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজকর্ম করা হয় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। নির্বাচিত হওয়ার পর একদিনও তিনি পরিষদে বসেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ২ কিলোমিটার দূরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে সেবা নিতে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারিয়াকান্দি কাজলা ইউপি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়েছে ২০১৯ সালে। গত ইউপি নির্বাচনের পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান এএসএম রফিকুল ইসলাম একদিনও ইউপি ভবনে বসেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

২ কিলোমিটার দূরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেতে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন  এলাকাবাসী। এদিকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ ইউপি সদস্যরাও। সীমানা বিয়োজনে সম্প্রতি চেয়ারম্যানের এ বাড়িটিও জামালপুরের সীমানায় চলে গেছে।

কাজলা পাকেরদহ গ্রামের রফিক শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ি হতে চেয়ারম্যানের বাড়ি প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু ইউপি ভবন কাছাকাছি। এতদূরে গত কয়েকদিন ধরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে যাতয়াত করেছি। এ পর্যন্ত অনেক টাকা তার পরিবহনজনিত কারণে ব্যয় হয়েছে। এর উপরে আবার বোরো ধানের কাজ বাদ দিয়ে তার বাড়িতে যাচ্ছি। এতে আমার সময় শ্রম টাকা সবকিছুই ব্যয় হচ্ছে’।

৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এত সুন্দর একটা ইউপি ভবন পরে থাকে, আর আমরা বাধ্য হয়েই চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ চালাই। অতি শিঘ্রই এর একটা বিহিত আমরা প্রশাসনের কাছে চাই’। এ বিষয়ে কাজলা ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউপি ভবনে একেবারেই বসিনা, এ কথাটি সঠিক না।

মাসে দু একদিন বসি। ভবনটি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়ির পাশে অবস্থিত। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইউপি ভবনে বসা হচ্ছে না। তবে সরকার আমার নিরাপত্তা দিলে আমি বসতে রাজি আছি। বর্তমানে আমার নিজ বাসায় পরিষদের সকল প্রকার কাজ পরিচালনা করছি’। অপরদিকে গত ৭ মাস ধরে ভাড়া বাড়িতে ইউনিয়নের সকল প্রকার কাজ করা হচ্ছে  উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের।

২০০৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জোড়গাছা বাজারে এ ইউনিয়ন পরিষদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে ২০০৮ সালে। যেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র, প্রাণী সম্পদ ও কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সার্ভিস পয়েন্ট চালু ছিল। গত বছরের ২৬ জুন ইউপি ভবনের সকল প্রকার মালামাল পার করা হয় ছাইহাটা গ্রামের চারমাথা এলাকার ভাড়া বাড়িতে। ফলে ইউপি ভবনে ১৫ বছর ধরে চলে আসা সকল প্রকার সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপির সচিব ফেরদৌস রহমান বলেন, গত কয়েকমাস ধরে স্থানান্তর করা বর্তমান টিনসেড ভবনের সকল ভাড়া চেয়ারম্যান তার নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শিপন বলেন, জনস্বার্থে পরিষদের সদস্যদের সম্মতি অনুযায়ী আমরা ভাড়া নেয়া নতুন ভবনে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ জনসাধারণ জোড়গাছা চারমাথা মোড়ে আড্ডা দিতে অভ্যস্ত।

অপরদিকে বর্তমান ইউপি ভবন একটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক বিবেচনায় চারমাথা মোড়ে সাময়িকভাবে পরিষদের কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে কথা হলে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, নিজস্ব ইউপি ভবন থাকা সত্ত্বেও অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনা করা চেয়ারম্যানদের আইনবিরুদ্ধ কাজ। এ বিষয়ে পরিষদগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়