ফুলবাড়ীর খাদ্যগুদামে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ হয়নি

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৮:০৬ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৮:০৬ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: উদ্বোধনের  দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে কোনও ধান সংগ্রহ করতে পারেনি ফুলবাড়ী খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মৌসুমে ধান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন অসময় ধান ক্রয় করতে পারবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য বিভাগ জানায়, সারা দেশের মতো গত ১৭ নভেম্বর ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৮ টাকা কেজির দরে কৃষকদের কাছ থেকে ৬২৪ মেট্রিকটন ধান ও ৪২ টাকা কেজিতে মিলারদের কাছ থেকে ৫৯৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তার মধ্যে এক মুঠো ধান এখন পযর্ন্ত সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। তবে উপজেলার ২৪ জন মিলারের মধ্যে ১৪জন গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করেছেন।

এদের  মধ্যে একজন অটো রাইচ মিলার।  তারা পৃথক ভাবে ১২৭ মেট্রিক টন চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাকী চাল দেয়ার কথা অটো রাইচ মিল মালিকের। তবে ধান সংগ্রহ না হলেও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে স্থানীয় কৃষকরা দাম কম ও ঝামেলার কারণে খাদ্য গুদামে কৃষকরা ধান দিতে নারাজ। একই অবস্থায় রয়েছে চাল ক্রয়ের বিষয়। উৎপাদনে খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় গুদামে চাল দিতে তেমন আগ্রহ নেই  মিল মালিকদের।

উপজেলা কুটি চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান জানান সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। এ জন্য  ‘খোলা বাজারে ১১শ থেকে ১১৫০ টাকায় আমি ধানের মণ বিক্রি করছি। একই কথা জানান উপজেলার বড়লই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ সরদার। তিনি বলেন গুদামে ধান দিতে গেলে এটা লাগবে ওটা লাগবে, আবার ফ্রেশ ধান লাগবে বলে নানা কথা শোনান গুদামের কর্মকর্তারা। এজন্য ঝামেলায় যাইনি।

এদিকে চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আলী হোসেন জানান  সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে সে দামে গুদামে চাল দিতে গেলে লোকসান গুনতে হয় । প্রতি কেজিতে আমাদের তিন থেকে চার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুল হক জানান, সরকার ঘোষিত মুল্যের চেয়ে বাজারে আমন ধানের মূল্য বেশি। কৃষকরা গুদামে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। ফলে আমন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়