নাচোলে এনজিও’র নামে কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৯:২৩ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৯:২৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের  নাচোল উপজেলায় ‘বিসিফ সংস্থা’ নামে একটি ভূয়া এনজিও (মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্র ঋণ) প্রতিষ্ঠা করে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাবার অভিযোগে ওই এনজিও’র ম্যানেজার ও প্রতারক চক্রের অন্যতম মূলহোতা  ইব্রাহীমসহ (৩৭) ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

ইব্রাহীম  নাচোলের খলসি গ্রামের জাকারিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নাচোল পৌর মাস্টারপাড়া এলাকার অফিস থেকে তাকেসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

একই সাথে গ্রেফতার হয় ওই এনজিও’র শাখা ব্যবস্থাপক ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে রায়হান উদ্দীন(৩০), ক্যাশিয়ার ও  নাচোলের গাছপুকুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আতিকুর রহমান(২৫), মুরাদপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও মাঠকর্মী  ফরহাদ হোসেন (৩১, মাধবপুর এলাকার আব্দুল হানিফের ছেলে ও মাঠকর্মী শাহ আলম (২৪) এবং খেসবা এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে ও মাঠকর্মী রেজাউল করিম(২৪)।

অভিযানে এনজিও’র অফিস থেকে জব্দ হয় ১০টি সিল, ১৪টি চেক ও লোন রেজিস্টার, ৫০০ পাসবই, ৪টি আইডি কার্ড, ২০০টি ব্লাংক (ফাঁকা) ব্যাংক চেক, ১০টি সিমকার্ডসহ ৭টি মোবাইল ফোন সেট। এনিয়ে গত প্রায় সাড়ে চার মাসে জেলার ৭টি এমন ভূয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালালো র‌্যাব।

এসব অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন চার মালিকসহ ৩৪ জন। প্রতিটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ পর্য়ন্ত যে  সকল প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয় তার চারটি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ও তিনটি নাচোল উপজেলার। আজ বুধবার (২৫ জানুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথমে ৭ প্রতারিত ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট (ডকুমেন্টরি বা কাগজপত্রসহ) অভিযোগের ছায়া তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ব্লাকমেইলের মাধ্যমে (ঋণ গ্রহণের জন্য গ্রাহকের জমাকৃত ফাঁকা ব্যাংক চেকের সাহায্যে ব্যাংক থেকে গ্রাহকের নেয়া ঋণের অধিক টাকা উত্তোলন) গ্রামের সহজ সরল মানুষকে তাদের এনজিওতে টাকা বিনিয়োগ (ফিক্সড ডিপোজিট) ও সঞ্চয় এবং ঋণ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে।

গ্রাহকরা সরল বিশ্বাসে তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ও চেক জমা দিয়ে ঋণ গ্রহণ করলে তারা সব টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় বুধবার নাচোল থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রুহ-ফি-তাহমিন তৌকির বলেন, অভিযানকালে শতাধিক ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। তারা বিসিএফ-এ তাদের জমাকৃত ও ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা ফেরৎ পাবার আবেদন করেন। তাৎক্ষণিক ৫৫ গ্রাহকের পাওনা টাকার পরিমাণসহ স্বাক্ষরিত তালিকা করে মামলার এজাহারের সাথে থানায় জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার প্রতারক চক্রটি বর্তমানে আদর্শ ফাউন্ডেশন’ নামে অন্য একটি এনজিও পরিচালনা করছে।

তিনি আারও বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ওই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিসিফ-এ থাকাকালীন প্রতারণার অভিযাগের ভিত্তিতে। এরা পূর্বে বিসিফ সংস্থা নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করত। মূলত: জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের বিসিফ সংস্থার প্রধান অফিস ছিল ও ৪ অংশীদার এর  মূল ছিল মালিক যারা গ্রাহকের ৬/৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক রয়েছে। তারা এমন কি নিজ কর্মীদেরও প্রতারিত করে।

আজ বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দায়ের মামলায় তাদেরও পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতাররা বিসিএফ এরর মালিকরা পালিয়ে যাবার পর তাদের যোগসাজসে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিসিফ এর নামে আবার কোটি টাকরাও বেশি আত্মসাৎ করে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়