খাদ্য নিরাপত্তায় জোর

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ১১:০৯ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ১১:০৯ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

কয়েক মাস ধরে বিশ্বমন্দার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশংকার কথা বলা হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা খাদ্য সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে একাধিকবার উঠে এসেছে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ। আউশ ও আমনের বাম্পার ফলনেও কমেনি চালের দাম।

বাজার স্থিতিশীল ও আলোচিত মন্দা মোকাবিলার আগাম সতর্কতা হিসেবে বোরো উৎপাদন বাড়াতে জোর দিচ্ছে সকার। এ জন্য ১৭০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। এর মধ্যে বোরোর আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২৭ লাখ কৃষক বিনামূল্যে পাবেন বীজ ও সার। এছাড়াও উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদে ১২ লাখ কৃষক পাবেন ৮২ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা। এদিকে বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে বাড়ানো হয়েছে সার ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ এবং সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

তথ্যমতে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে তিন কোটি ৫০ লাখ টন চাল ও ৫০-৬০ লাখ টন আটার চাহিদা রয়েছে। চালের প্রায় শতভাগ এবং গমের ১০ শতাংশের মতো দেশীয় জোগান থেকে আসে। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য যে, প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মন্দা ও দুর্ভিক্ষের শঙ্কার কথা বলছেন। সর্বশেষ ১৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএইউ) গাজীপুরের ২৫তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

আর তিনি বারবার আবাদি জমি সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন। শুধু তাগিদই নয়, তিনি বলেছেন কোন আবাদি জমি, যা সারাবছর তিন ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়, শিল্পায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার নিজ নিজ এলাকায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য আরও উদ্যোগ নিতে আহবান জানিয়েছেন। ১৭ অক্টোবর ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করছি, কোন খাদ্যের যেন অপচয় না হয়। পাশাপাশি যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, তা চাষের আওতায় এনে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ান।

সারাবিশ্বে যে দুর্যোগের আভাস আমরা পাচ্ছি, তা থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করুন। আমি বিশ্বাস করি, সবার প্রচেষ্টায় এটা করা সম্ভব। অনুসন্ধানে জানা যায়, আমন ধানে লাভ পেয়ে এবার তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষক। ধানের এলাকা হিসেবে খ্যাত হাওড় অঞ্চলে চলছে বোরো আবাদের ধুম।

নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, মাগুরা, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর কৃষকরা প্রচন্ড শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এশিয়ায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মানুষ নিম্ন আয়ের। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই বিপর্যয় সামাল দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের অবস্থা কী দাঁড়াবে তা ভাবনার বিষয়। সরকারের লক্ষ্য থেকে বারবার বলা হয়েছে, আমাদের খাদ্য ঘাটতির কোন সুযোগ নেই, সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

এটা ঠিক বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অনেকটা পিছিয়ে দিচ্ছে। তারপরও আমাদের কৃষির যে অগ্রগতি এটা ধরে রাখতে হবে। আমাদের মানুষের আর যাই হোক তাদের খাদ্যের অভাবটা যেন না হয় তা আমাদের দেখতে হবে।

মনে রাখা দরকার, কৃষি নির্ভর গ্রামীণ জনপদের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। এরপরই রয়েছে প্রবাসী আয়। যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় অর্ধেক মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা স্বচ্ছ আয়ের উৎস। ফলে সামগ্রিকভাবে বাড়ছে সংকট। এমন অবস্থায় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন ব্যাপার।

তবে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত সুষ্ঠু উদ্যোগই কেবল পারে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়