দূষিত শহরের শীর্ষে ঢাকা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৫:২৮ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৫:২৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ কিছুতেই কমছে না। প্রতিদিনই দূষণ বেড়ে ঢাকার বাতাস এখন চরম অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে।  বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের মধ্যে ঢাকা প্রায় প্রতিদিনই শীর্ষ অবস্থানে থাকছে। পত্র-পত্রিকার  খবরে  টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্বের সব থেকে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। গত সোমবার সকালে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ২৯৩ নিয়ে ঢাকা দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে আছে।

এর আগে গত রোববার ও শনিবার ও তালিকার শীর্ষে ছিল শহরটি। বিশ্বজুড়ে দূষিত বাতাসের শহরের একটি তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। সে তালিকায় সোমবার ঢাকার পরেই রয়েছে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ (একিউআই স্কোর ২৯১) এবং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি (একিউআই স্কোর ২১৬)। তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৮৯), এরপর যথাক্রমে আছে চীনের উহান (১৭৩), চং গিং (১৭১) ও চেংডু (১৭০)।

গত বছরের শেষ দিকেও ঢাকা পরপর কয়েকদিন সব থেকে দূষিত বায়ুর শহর হয়েছিল। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বায়ু দূষিত হচ্ছে। রাজধানীতে প্রচুর নির্মাণ কাজ হচ্ছে যা ধুলা তৈরি করছে। অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ, আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা, ইটভাটা থেকে শুরু করে কোনোটাই নিয়ম মেনে করা হয় না। বাতাসে যে পরিমাণ সালফার ডাই অক্সাইড থাকে তা পানিতে মিশে চোখে জ্বালাপোড়া করায়। এতে ফুসফুসের প্রদাহ থেকে শুরু করে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়।

এ ছাড়া বাতাসে যে ধূলিকণা আছে তার মধ্যে পিএম-২ দশমিক ৫ এর নিচে যেসব উপাদান সেগুলোই সবচেয়ে ক্ষতিকর। আইনের প্রয়োগ না থাকায় ঢাকার দূষণ এখন অতিমাত্রায় দৃশ্যমান। উল্লেখ্য, ঢাকার অস্বাস্থ্যকর বাতাস থেকে রক্ষায় নগরবাসীর মধ্যে কিছু পরামর্শ দেয় এয়ার ভিজুয়াল, এর মধ্যে রয়েছে, ঘরের বাইরে শরীর চর্চা করা যাবে না। বন্ধ রাখতে হবে বাসাবাড়ির দরজা জানালা। ঘর থেকে বাইরে বেরুলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ঘরের বাতাস দূষণমুক্ত করতে চালিয়ে রাখতে হবে বায়ু বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র।

আমরা মনে করি, দূষিত শহর হিসেবে যে চিত্র সামনে এসেছে তা শুধু দু:খজনকই নয়, বরং উদ্বেগের। ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, নোংরা শহর, ব্যাপক যানজটে বিপর্যস্ত, দূষণ, অনিরাপদ, বসবাসের অযোগ্য শহর- এ ধরনের নেতিবাচক অভিধা প্রায় প্রতিবছরই কপালে জুটছে জনবহুল এই মেগাসিটির। ফলে এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে। বলাই বাহুল্য, একটি দেশের রাজধানী যদি দূষিত শহরের তালিকায় সামনের দিকে থাকে তবে তা কোনোভাবেই সহজ করে দেখা যাবে না।

দূষণের কবল থেকে রাজধানীকে রক্ষা করতে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্পও নেই। রাজধানী ঢাকার চারপাশে আছে, ইটভাটা, রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে জ্বালানি পুড়ছে গাড়িতে। তা থেকে বাতাসে উচ্চমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে সালফার। বায়ু দূষণের জন্য নির্মাণ কাজকে বড় ধরনের দূষণের নিয়ামক হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহনও বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলছেন, এ পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নানা অসুখে-বিসুখে ভুগছেন নগরবাসী।

চিকিৎসকদের মতে, বায়ু দূষণের কারণে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হতে পারে মানবদেহে। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে কেউ কাউকে আলাদাভাবে সচেতন করা সম্ভব নয়। এ জন্য থাকতে হবে নীতিমালা ও সুশাসন, যা আমাদের দেশে নেই। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই এ বিপদ মোকাবিলার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সরকার ও পরিবেশ সংগঠনই শুধু নয়, সাধারণ মানুষেরও যুক্ত হতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়