বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কৃষিপণ্য রপ্তানি

এড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৬:১৯ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৬:১৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

রপ্তানি খাত থেকে যে দেশের আয় যত বেশি সে দেশের আর্থিক ভিত্তি তত বেশি শক্তিশালী। উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে পুরো বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। যে কারণে অনেকের নিকট নাম না জানা ইউক্রেন যুদ্ধের বুলেটের আঁচড় আর্থিক দুর্দশায় রূপান্তরিত হয়ে বাংলাদেশের অজ পাড়া গাঁয়ের একজন নাগরিকের ঘরে অভাব রূপে আক্রমণ করছে। আর্থিক সক্ষমতা কমানোর জন্য পক্ষ-বিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের ওপর আর্থিক, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।

বুলেটের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অর্থই এখন যুদ্ধের মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এরকম প্রেক্ষাপটে কোন দেশের আর্থিক খাতের সক্ষমতাকে তার শক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর এই আর্থিক সক্ষমতার শক্তিশালী ভিত্তির একটি বড় অংশই হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। এ কারণে বিশ্বের সকল রাষ্ট্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রপ্তানি খাতের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যতোগুলো খাত রয়েছে তার মধ্যে কৃষি পণ্য রপ্তানি অন্যতম।

বাংলাদেশ হতে নানাবিধ কৃষিপণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চা পাতা, আম, কাঁঠাল, লেবু, লিচু, লটকন, আমড়া, পেয়ারা, শুকনা বরই, হিমায়িত সবজি, আলু, কচু, পটল, মুখীকচু, লাউ, পেঁপে, শিম, করলা, কাকরুল, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, গুঁড়া মসলা, কালোজিরা, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, শুকনা মরিচ, বিরিয়ানী মসলা, ড্রিংকস, বিস্কুট, চানাচুর, সেমাই, পটেটো ফ্লেকস, নুডলস, ড্রাই কেক, মুড়ি, চিড়া, প্রভৃতি রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশ হতে যে সকল দেশে শাকসবজি রপ্তানি হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও নেপাল এবং যে সকল দেশে ফল রপ্তানি হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- কাতার, ভারত, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়া। পৃথিবীর  অন্যান্য দেশও  শাকসবজি এবং ফলমূল বিদেশে রপ্তানি করে।

অন্যান্য দেশের রপ্তানির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ এখনও কৃষিপণ্য রপ্তানির বাজারে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেনি। অথচ বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্য বিশেষ করে শাক-সবজি রপ্তানির দুয়ার খোলা রয়েছে। আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা সমূহ হচ্ছে আমদানিকারক দেশগুলোতে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের  কি কি চাহিদা রয়েছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে না থাকা।

আন্তর্জাতিক পণ্যমান এর জন্য ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট অর্জনের গুণাবলী অর্জন না করা, কৃষিপণ্য ও শাক সবজি পরিবহনে জটিলতা ও অন্যায্য পরিবহন খরচ। অন্যান্য আরো কারণ ছাড়াও এসব কারণে কৃষিপণ্য এবং শাক সবজি রপ্তানি খাতে আশানুরূপ বৈদেশিক মুদ্রা অজর্নের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা অর্জন করা যাচ্ছে না। যে যাই বলুক না কেন, করোনা কালে মানুষ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে কৃষিপণ্যের  সরবরাহ চেইন ভেঙ্গে পড়লে মানব সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হতে বাধ্য।

এমতাবস্থায় আশা জাগানিয়া বিষয় হলো কৃষিপণ্যের উৎপাদন, উন্নয়ন ও রপ্তানির খাতকে জোরদার করতে পারলে তা থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতে পারে। এমতাবস্থায় আমি প্রস্তাব করছি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে “কৃষিপণ্য রপ্তানি সেল” খুলে উক্ত সেলের মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য বিশেষ করে শাক সবজি যথা আলু, পটল, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, করলা, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, বিভিন্ন মশলা সহ অন্যান্য সবজি উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে বিদেশের বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে যে সকল সম্ভাবনা রয়েছে তা খুঁজে বের করে সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানো হোক, এক্ষেত্রে যে সকল সমস্যা রয়েছে তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করা হোক।

আমাদের দেশের কৃষকেরা খুবই পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান এবং যে কোন মডার্ন টেকনোলজি দ্রুত ধারণ করতে সক্ষম। যদি তাদেরকে সঠিক ভাবে গাইড করা হয় তা হলে তারা রপ্তানিযোগ্য কৃষিজাত শস্য-পণ্য উৎপাদনে বিম্ময়কর সাফল্য দেখাতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের দেশের মাটির সহজাত উর্বরতাও আশাপ্রদ। এমতাবস্থায় সবাই মিলে একটু চেষ্টা করলেই কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে এজন্য সরকারী তরফে যে ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত তা করতে হবে।

কৃষকদের সচেতন করে এ কাজে উৎসাহিত করতে সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া রপ্তানি কাজে জড়িত সবাইকে দেশদরদী মানসিকতা নিয়ে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এভাবেই আমরা কৃষিপণ্য রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের চেহারা পাল্টে ফেলতে পারি। 
লেখকঃ  এডভোকেট, জজকোর্ট, বগুড়া                                                                                                    

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়