ঢাবির মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ভোগান্তির সমাধান হবে কবে?

প্রকাশিত: আগস্ট ০৪, ২০২২, ১২:৫৪ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ০৪, ২০২২, ১২:৫৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

মাদরাসা থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থীদের বন্ধ থাকা বৃত্তি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হওয়া মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির সমাধান হবে কবে?

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা। অবিলম্বে মাদরাসা থেকে বোর্ড বৃত্তির টাকার পাওয়ার জটিলতার সমস্যা সমাধান না করলে হাইকোর্টে রিট করবেন বলে মানববন্ধনে ঘোষণা দিয়েছে বৃত্তিপ্রাপ্তদের একাংশ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কারিগরি ত্রুটি না বরং এখানে কারো সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। এ সদিচ্ছার অভাব কাদের! সহজেই যদি বলে মাউশিতে যারা আছে, মাদরাসা অধিদপ্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই তিনটা এনটিটিকে আমরা দায়ী করছি। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। 

করোনাকালীন সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটালাইজড করার কথা বলা হয় আমরা সবাই যেন ক্রমিকের সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে দেওয়া ফরমে পূরণ করি! আমরা খুশি হয়েছিলাম। কারণ, আগের মতো মেকানিকাল ওয়েতে আমাদের দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। কিন্তু দুই বছরে ভোগান্তি দূর না করে ভোগান্তি আরো বৃদ্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেন সিফাত। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনাস ইবনে মুনিরের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন তামজিদ হোসাইন, আফরাজ আল মাহমুদসহ মাদরাসা বোর্ড থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত ঢাবি শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা মাদরাসা বোর্ড থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত তাদের সবাইকে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ধরনের সদিচ্ছা না দেখায় এবং সমস্যার সমাধান না করে তাহলে হাইকোর্টে রিট করার ঘোষণা দেন তারা। 

উল্লেখ্য, তিন বছর ধরে বৃত্তির টাকা পাচ্ছে না মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করে সাধারণ শিক্ষায় যাওয়া শিক্ষার্থীরা। ২০১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ সালে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাচ্ছে না। একইসময়ে বৃত্তি পাওয়া অন্যান্য বোর্ডের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বৃত্তি পেলেও ‘অদৃশ্য’ কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আলাদা হয়ে যাওয়ার পর থেকে এ সমস্যার শুরু। 

গত তিন বছরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সমাধানে কে এগিয়ে আসবে, সেটা নিয়েও আছে দ্বন্দ্ব। এর ফলে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মাদরাসা শিক্ষার্থী বৃত্তির টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা বোর্ড ও মাউশিতে গেছে। কিন্তু ফিরেছে খালি হাতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়