তবুও অভিনয়ে দিলারা জামানের অদম্য ছুটে চলা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৫:৫৭ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ০৫:৫৭ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

অভি মঈনুদ্দীন : একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান ৮১ বছর বয়সেও অভিনয় করছেন নিয়মিত। কিছুদিন আগে তার অভিনীত একটি সিনেমাও মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শকের কাছে দারুণ সমাদৃত হয়েছে। দিলারা জামান এমনই একজন বরেণ্য অভিনেত্রী, বিশেষত নাটকে সিনেমায় মায়ের চরিত্রে তিনি অনবদ্য। যে কারণে নির্মাতারা এখনো গল্পে মায়ের চরিত্র যদি দিলারা জামানের সাথে মানানসই হয় তাহলে তাকে নিয়েই কাজ করার চষ্টো করেন। নির্মাতা গোলাম হাবিব লিটু তাই তার নির্মিত বিশেষ টেলিফিল্ম ‘মা বাবার পরিণতি’-এ টেলিফিল্মে মায়ের চরিত্রে দিলারা জামানকে নিয়েই কাজ করেছেন মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে। টেলিফিল্মটির গল্প লিখেছেন তুষার কান্তি সরকার। এতে দিলারা জামানের সহশিল্পী হিসেবে আছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

টেলিফিল্মটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে দিলারা জামান বলেন,‘ এই বয়সে এসে আসলে ঢাকার বাইরে কাজ করাটা আমার জন্য সত্যিই অনেক কষ্টের হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও লিটুর বিশেষ অনুরোধে এই টেলিফিল্মটিতে কাজ করছি। কারণ লিটু বলেছে যে আমার যে চরিত্র, সেটিতে আমাকে নিয়েই লিটু কাজ করতে চায়। আমাকে ঘিরে তার এই প্রবল আগ্রহ আমাকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। সত্যি বলতে কী জীবন একটা যুদ্ধ। মানুষকে আজীবন এই যুদ্ধ করে যেতে হয়। তাই এই বয়সে এসেও অভিনয় করছি। অবশ্যই জীবনের প্রয়োজনে। তবে এটাও সত্যি অভিনয়ের প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা আছে। কারণ শুটিং-এ না আসলেতো অনেক প্রিয় প্রিয় সহশিল্পী-মানুষের সঙ্গে দেখা হবেনা। শুটিং-এ আসলে সবার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, গল্প করি-ভীষণ ভালো লাগে।’

দিলারা জামান জানান শিগগিরই টেলিফিল্মটি চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। দিলারা জামান অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিলো (স্বল্পদৈর্ঘ্য) এম এম রহিমের ‘ওমর ফারুকের মা’। এতে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান।

১৯৫৭ সালে স্কুলে তিনি প্রথম  নাটক অভিনয় করেন। শরৎচন্দ্রের ‘মামলার ফল’। ১৯৬৬ সালে প্রথম নাজমুল আলমের রচনায় ও আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় রেডিওতে প্রথম নাটক করেন। টেলিভিশনে আমি প্রথম নাটক করি ১৯৬৭ সালে খান জয়নুলের লেখা ‘পিনিস’ নাটকে। পরিচালক ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। হুমায়ূন আহমেদ’র নির্দেশনায় প্রথম ১৯৮৪ সালে ‘দিনের শেষে’ নাটকে অভিনয় করেন। বিপরীতে ছিলেন গোলাম মুস্তাফা। এরপর হুমায়ূন আহমেদ’র ‘এইসব দিনরাত্রি’,‘অয়োময়’ নাটকেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘মেঘলা আকাশ’,‘মনপুরা’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘অপেক্ষা’, ‘আলতাবানু’, ‘পোস্টমাষ্টার ৭১’ ইত্যাদি। 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়