ত্বীন ফল চাষে সাড়া ফেলেছেন বগুড়ার নবীন (ভিডিও সহ)

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

সাজেদুর রহমান সবুজ (শাজাহানপুর) : বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার আড়িয়াবাজার এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ত্বীন ফল চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোয়েব সাদিক নবীন। 


প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে এ ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে চান সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই কৃষি উদ্যোক্তা । পবিত্র কোরআনে বর্ণিত, ঔষধি গুণ সমৃদ্ধ ত্বীন ফল পুষ্টি ও স্বাদে ভরপুর। ঘন সবুজ ত্বীন গাছে  ডুমুর আকারের কচি পাকা এই ফলটি দৃষ্টি কাড়ছে স্থানীয়দের।

 
ফলটি এলাকায় প্রথম চাষ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের। ত্বীন ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন ফল প্রেমী ও উৎসুক চাষীরা। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ত্বীন ফলের চাষ লাভজনক হয়ে উঠবে।

 
নবীন জানান, সুদূর সিঙ্গাপুর গিয়ে তুরস্কের এক যুবকের সাথে বন্ধুত্ব হয় নবীনের । তার কাছে ত্বীন ফল চাষ সম্পর্কে ধারণা নেয় নবীন। এরপর তুরস্ক থেকে আমদানী করা ৬মাস বয়সী ৬০০চারা রোপণ করেন দুই বিঘা জমিতে।

চারা রোপণের ৩মাসের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। জৈব সার প্রয়োগ, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছ গুলো বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি পাতার গোড়ায় গোড়ায় নজর কাড়ছে সবুজ ত্বীন ফল যা পাকার পরে লাল-খয়েরি বা মেরুন রং ধারন করে। এসব গাছ থেকে একটানা ৩০-৪০ বছর ফল পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি পাকা ত্বীন ফল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১হাজার টাকায়।

 
দেশেই ত্বীন ফল চাষ করা সম্ভব তা প্রমাণ করেছেন উদ্যোক্তা নবীন। তার মতে ১বিঘা জমিতে ২ লাখ টাকা খরচে ৩০০ গাছ লাগিয়ে বছরে ৬-৮ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

 
নবীন এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার শেখ সাব্বির আহমেদ বলেছেন, ‘অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই আমরা ফল বিক্রি করছি , সেই সাথে আমাদের চারার অর্ডার নেওয়া আছে তবে এখন ফলের এক্সপেরিমেন্ট করছি এবং গাছের পরিচর্যা করছি । গাছ যখন উপযুক্ত হবে চারা করার জন্য তখন আমরা চারা বিক্রি শুরু করবো।’ 


কৃষি উদ্যোক্তা সোয়েব সাদিক নবীন বলেছেন ,‘যে কোন বাগান তৈরি করার আগে বুঝতে হবে মাটি কেমন হওয়া উচিৎ। অন্যান্য বাগান মালিক, যারা ত্বীন চাষের চেষ্টা করেছেন তাদের কিছু ভুল ছিলো। যেমন বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা, বেডিং পদ্ধতি করা বা এটা যেহেতু মরুভূমির গাছ তাই এর জন্য মরুভূমির মাটির ফিল্ড তৈরী করতে হবে যা তারা করেনি।

 
এছাড়াও তারা সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন করতে পারেনি বিধায় বাংলাদেশে ত্বীন চাষ হয়নি।  সুতরাং আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো, যে কেন হচ্ছেনা বা হবেনা। বর্তমানে আমাদের এখন প্রচুর প্রি-অর্ডার আছে ফলের জন্য। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ফল দিতে পারছি ক্রেতাদের। মূলত বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই ত্বীন ফল খেয়ে আসছেন।  তবে শুধু শুকনা ত্বীন ফল পাওয়া যেত যা আমদানি করা হতো। গাছ পাকা ত্বীন ফল সচরাচর পাওয়া যেতনা। শুধু আরব দেশে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেটি বগুড়া বা আমার দেশে দিতে পারছি এটাই আমার ভালো লাগা।’ 


তিনি আরও বলেন, নবীন এগ্রো লিমিটেডের উদ্যেশ্য বাংলাদেশে যে আমরা ত¦ীন চাষ করছি এটা ভালোভাবে করা যাতে ভবিষ্যতে স্বল্পআয়ের মানুষও এই বিদেশি দামী ফল কিনে খেতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত মানুষ চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছে এবং অনেকেই আছে যারা বাগান করতে চায় কিন্তু সঠিক নির্দেশনার অভাবে করতে পারছে না তাদের উৎসাহিত করা।


দেখা যায় বাংলাদেশের চারা ব্যবসায়ীরা চারার পরিচর্যার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়না এবং দায়িত্বও নেয়না এতে যারা নেয় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে । কিন্তু আমাদের উদ্যেশ্য  চারা বিক্রির পর মাটি তৈরী থেকে শুরু করে পরিচর্যা পদ্ধতির নির্দেশনা দেওয়া এবং যেহেতু দামী চারা তাই গাছ বড় হওয়ার আগে মারা গেলে নতুন চারা দেওয়া এবং গাছে ফল ধরা পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করা।

 
আমি মনে করি এভাবে যদি সব বাগানি কাজ করে তবে বিদেশি দামী ফলের চাহিদা দেশেই মেটানো সম্ভব । সরকার যদি সহযোগিতা করে তবে আরও সহজ হবে বাস্তবায়ন করা। এবং নতুন উদ্যেগতারাও অনুপ্রাণিত  হবে।

 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম, নবীনের এই  উদ্যোগ সম্পর্কে বলেছেন ‘নবীনের ত্বীন ফল চাষ, এটা নিয়ে গবেষণা, চারা তৈরীর বিষয়ে যা দেখলাম তাতে সে সফল। তার বাগানে ৩ মাসে প্রচুর ফল ধরেছে । মূলত এটি ত্বীন  ফলের বৈশিষ্ঠ্য অতি অল্প সময়ে ফল ধরে এবং ১২ মাসই ধরে এবং এটি অতি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল’  
    

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়