চুল পড়া ও চুলের যত্ন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ০২:০১ দুপুর
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ০২:০১ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

করতোয়া অনলাইন সংস্করণ ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল 'Daily karatoa'য় প্রচারিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আমাদের স্বাস্থ্য’। উক্ত অনুষ্ঠানে ‘‘চুল পড়া ও চুলের যত্ন’’ নিয়ে আলোচনা করেন এমবিবিএস (ডি এম সি): ডিডি (থাইল্যান্ড), সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক- ডাঃ রশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন ত্রয়ী পাল। দৈনিক করতোয়ার সাপ্তাহিক আয়োজন ‘ স্বাস্থ্য কথায়’ ওই আলোচনার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

করতোয়া: চুল পড়ার কারণগুলো কি কি?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম: চুল পড়ার কারণগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় যেমন, জেনেটিক কারণ অপরটি পরিবেশগত কারণ। জেনেটিক সমস্যার উপর সাধারণত কারও নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। তবে পরিবেশগত কিছু কারণ থাকে যেমন- অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে চুল পড়ে। এর উদাহরণ হলো প্রসূতি মায়ের চুল পড়া। এটি স্থায়ী সমস্যা নয়। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর চুল পড়ে আবার কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যায় কারণ চুলের গোড়া সুস্থ থাকে। এছাড়াও পরীক্ষার সময়, ম্যালেরিয়া বা টায়ফয়েড জ¦র হলে চুল পড়ে যা চাপ কমে গেলে আবার ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া হরমোনজনিত কারণে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই চুল পড়তে দেখা যায়। থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখে চুল পড়ে, ডায়াবেটিস হলে চুল পড়ে, চর্ম রোগের কারণে চুল পড়ে, ট্রাইকোটেলোমেনিয়া যা এক ধরনের মানসিক রোগ। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের মনের অজান্তে চুল টেনে টেনে তুলে এতে আরাম বোধ করে। কেমো থেরাপি নিলে চুল পড়ে এবং কিছু ওষুধ সেবন বা প্রয়োগের কারণেও চুল পড়ে। 

করতোয়া: চুল পড়া সমস্যা রোধে খাদ্য তালিকায় কি কি রাখা উচিত?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম: সুষম খাবার খেলে চুল পড়া সমস্যার সমাধান হয়। যেমন-প্রোটিন জাতীয় খাবার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খেতে হবে। বিশেষ করে ডিম খেলে চুলের শেকড় শক্ত হয়। টাটকা শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে। এতে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল আছে। চুল পড়া রোধে আয়রণ, ভিটামিন বি-সেভেন, জিংক, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম খুবই উপকারী এবং চুল গঁজাতে ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ কিছু খাবার- গাজর, কমলা, লেবু, পালং শাক, সামুদ্রিক মাছ এই সমস্যা রোধে উপকারী। 

করতোয়া: যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলো তাদের চুল পড়া সমস্যা হতে পারে কি?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম: করোনায় আক্রান্ত হলে মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ে এতে চুল উৎপাদন কমে যায় বা থেমে যায়। যাদের করোনা হয়নি তারাও করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে থাকে এ মানসিক চাপে তাদেরও চুল পড়া সমস্যা শুরু হয়। তবে চিন্তার কারণ নেই চাপ কমে গেলে সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।

করতোয়া: ভিটামিন ‘ই’ বা ‘ই-ক্যাপ’ সেবন বা প্রয়োগে সত্যই কি চুল পড়া কমে?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম:  ভিটামিন ই চুলের জন্য খুবই উপকারী। তবে চুলে প্রয়োগের চেয়ে মুখে সেবন করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে এটির অক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলের উপর প্রভাব ফেলে তখন চুল উৎপাদন কমে যায় তখন এটি প্রতিরোধে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই নতুন চুল গজাবে। চুল সাধারণত গজানোর ৩মাসের মধ্যে ঝরে পড়ে এটাই চুলের আয়ুষ্কাল। আবার নতুন চুল গজায়।

করতোয়া: কি পরিমাণ চুল পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম: প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। এর বেশি মুঠো ভরে চুল পড়লে বা মাথায় টাক পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

করতোয়া: অ্যালোপেশিয়া বা চুলের রোগের লক্ষণগুলো কি?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম:  অ্যালোপেশিয়ার কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে এরিয়াটা ও টোটালিস হলো মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে চুল উঠে ফাঁকা হয়ে রয়েছে এবং চুলের শেকড়ও দেখা যায় না। এমন হলে অনেকে মনে করে তেলাপোকা খেয়েছে। এটিকে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা বলে এবং পুরো মাথার চুল ঝরে তেলতেলে ত্বক বা টাক হয়ে গেলে অ্যালোপেশিয়া টোটালিস বলে। অ্যালোপেশিয়া ইউনিভার্সালিস হলে চোখের পাপড়ি, ভ্রু সহ শরীরের সব লোম ও চুল ঝরে পড়ে যায়। 

করতোয়া: অ্যালোপেশিয়া রোগের চিকিৎসা কি কি দেওয়া হয়?

ডাঃ রশিদুল ইসলাম: অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা অল্প জায়গায় হয় এজন্য টপিক্যাল স্টেরয়েড বা মলম দিয়ে থাকি। তারপরেও কাজ না হলে আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশন দেওয়া হয় বা মিনোক্সিডিল প্রয়োগ করা হয়। এছাড়াও আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজ ঘসলেও অ্যালার্জি হয় এবং স্পর্শকাতরতার কারণে চুল গজায়। এবং বেশি সমস্যা হলে আরেকটি পদ্ধতি প্লাটিলেট রিচ থেরাপি দেওয়া হয়। পিআরপি থেরাপি শরীরের নির্ধারিত অংশে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিশেষ প্রোটিন সরবরাহের একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগে নিজের শরীর থেকেই রক্ত নিয়ে তা থেকে প্লাটিলেট (অনুচক্রিকা) ও প্লাজমাকে (রক্তের বর্ণহীন সাদা অংশ) আলাদা করা হয়। এটি মাথার চামড়ায় বিশেষ ধরনের চিকন ইনসুলিন সুই দিয়ে প্রয়োগ করা হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়