ভিডিও শনিবার, ০১ মার্চ ২০২৫

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ সমাচার

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ সমাচার

মানুষের জীবন যাপনের স্বস্তি এবং বসবাসের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে আয়-ব্যয় এর সমন্বয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যদি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায় তবে বিষয়টি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন বলেই প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একমাত্র শাক-সবজি ছাড়া নিত্যপণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যয় বৃদ্ধিজনিত কারণে মানুষ অস্বস্তিতে পড়ে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এমন খবর নানা সময়েই পত্র-পত্রিকায় উঠে এসেছে।

আমরা বিগত দেড় দশক ধরে দেখেছি দেশে সিন্ডিকেটের কবলে ছিল বাজার ব্যবস্থাপনা। সরকারি দলের নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বাজার সিন্ডিকেট। এদের গায়ে হাত দেওয়া যায়নি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উঁচু পর্যায়ের প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করত দেশের চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য পণ্যের বাজার। আমদানিও এরাই করত। শুল্ক হ্রাসের সুবিধাও এরাই পেত কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দাম সব সময়ই ছিল হাতের নাগালের বাইরে।

ভোক্তা অধিকারের অভিযানের মুখেও সয়াবিন তেলের দাম কমানো যায় না। ১০৫ টাকার এক লিটারের এক বোতল সয়াবিনের দাম বাড়তে বাড়তে ১৮০ টাকা লিটারে পৌঁছেছে। তবুও আরও দাম বৃদ্ধির আশায় এসব সয়াবিন বাজারে লুকিয়ে রেখে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে আরও বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নেয়া হয়। একচেটিয়া সয়াবিন ব্যবসা দেশের বড় বড় দু’চারটি শিল্প-বাণিজ্য গ্রুপের হাতে সীমাবদ্ধ। ফলে তাদের মর্জিমাফিকই চলে দেশের ভোজ্যতেলের বাজার।

এখন সামনে পবিত্র রমজান মাস। বাজারে প্রচুর আমদানি হচ্ছে নিত্যপণ্য। জানুয়ারি মাসে বিপুল পরিমাণ নিত্য পণ্য আমদানি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো রোজার মাসের চাহিদার সমান। কিছু ক্ষেত্রে আমদানিকৃত রোজার চাহিদাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আরও নিত্যপণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকার কথা থাকলে খুচরা বাজারে এর উল্টো চিত্র দেখা মিলছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুরসহ রোজার অধিকাংশ পণ্যের মজুত বাড়লেও সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

আরও পড়ুন

ফলে রোজা শুরুর আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি থাকলেও এসব পণ্যের দাম এখনো চড়া। যদিও বেশকিছু ক্ষেত্রে পাইকারিতে দাম বেশ কিছুটা কমানো হয়েছে। তবু খুচরা বিক্রেতারা বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজির অজুহাত তুলে চড়া দামেই পণ্য বিক্রি করছে।

প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের মূল্য যখন সহনীয় পর্যায়ে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তখন তাদের জীবন কাটে স্বস্তিতে। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়, তখন দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। রমজানে যেন বাজার স্বাভাবিক থাকে-এ বিষয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।

রমজানে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ের  কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বার্তাটি অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু এখন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন কতটুকু হয় সেটা দেখার বিষয়। রমজানে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশংকা দূর করতে সরকার কঠোর হবেন -এমন প্রত্যাশা সবার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অপারেশন ডেভিল হান্ট : আরও ৬১৮ জন গ্রেফতার

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কাইপ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরে দুই মাসেও ভেঙে পড়া স্লাব সংস্কার হয়নি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে চোরাচালানকৃত ৩০টি ভারতীয় ফোন জব্দ

বগুড়ার কাহালুর পাঁচগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

কুড়িগ্রামের দারিদ্র বিমোচনে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবি