ভিডিও শনিবার, ০১ মার্চ ২০২৫

বিদেশি ঋণের বোঝা

বিদেশি ঋণের বোঝা। প্রতীকী ছবি

পদচ্যুত বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিগত দেড়দশকে বাংলাদেশের জন্য যে ঋণ নিয়েছে তার পরিমাণ মাত্র সাত বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন যে ঋণ করছে তার একটি বড় অংশও যাচ্ছে সেই ঋণ পরিশোধের পেছনেই। তথ্য মতে, জুন শেষে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৪টি বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বাড়লে তা কমে হয়েছিল ৯৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন। আমরা মনে করি, বিদেশ থেকে নেওয়া বাংলাদেশের ঋণ আবারও শত বিলিয়ন ছাড়িয়েছে বলে যখন জানা যাচ্ছে, তখন এটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

বড় বড় প্রকল্পের নামে বিগত আওয়ামী সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে এসেছে। কিন্তু অভিযোগ আছে প্রকল্পগুলিতে বাড়তি ব্যয় দেখিয়ে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতারা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির সেইসব বিশাল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। পত্র-পত্রিকার খবরে আমরা দেখছি, বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব মন্ত্রী- এমপি, তাদের আশীর্বাদ পুষ্ট, ব্যবসায়ী, আমলাসহ নানা স্তরের রাজনীতিকরা এসব ঋণের টাকা প্রকল্পের মাধ্যমে হরিলুট করে বিদেশে পাচার করেছে।

পাবলিক ও প্রাইভেট মিলিয়ে ২০১৭ সালের শেষে বাংলাদেশের সার্বিক মোট ঋণ ছিল ৫১.১৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে এটি ১০০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌছায়। বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর সুদ এবং আসল পরিশোধের পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক, রাজস্ব আহরণ, রপ্তানি বাণিজ্য, ডলার সংকট ও রিজার্ভ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা আশংকা করছেন ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিগত পতিত সরকারের রেখে যাওয়া লুটপাটের অর্থনীতির ধকল এখন অন্তর্বর্তী সরকারকে সামলাতে হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের ভাবনা থেকেই একটা দুশ্চিন্তা। তিনি আরও বলেন, একশ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ এর মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী সরকারের ঋণ। উনআশি বিলিয়ন ডলার তো তৎকালীন সরকারের। সেটা জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে সতের শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু পরিশোধ করার পরিমাণটা সুদ এবং আসল মিলিয়ে অনেক বেশি। আমরা বলতে চাই, একদিকে বিদেশ থেকে নেওয়া বাংলাদেশের ঋণ আবারও শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে ঋণ বৃদ্ধিতে ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় আসছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ঋণ সংক্রান্ত অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে হবে। রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় বাড়ানোসহ যেসব বিষয় আলোচনায় আসছে সেগুলো আমলে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ বিদেশি ঋণ। অর্থনীতিতে ঝুঁকির প্রধান প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, সম্পদ ও আয় বৈষম্য এবং সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়া ও বেকারত্ব। যখন ঝুঁকির বিষয়গুলো সামনে আসছে তখন তা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করনীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

বিগত আওয়ামী সরকারের এসব বিদেশি ঋণের সমস্ত দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধেই পড়বে। বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার মতো। আমরা প্রত্যেকের মাথায় ঋণ নিয়ে ঘুরছি। সেটা যে আমাদের দিতে হবে সেটা বলা হচ্ছে না কিন্তু এটাতো একটা বোঝা। পতিত সরকারের যেসব দুর্নীতিবাজ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করে আমাদের অর্থনীতির এ দুরবস্থা করে গেছে- তাদের পাচারকৃত অর্থ জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অপারেশন ডেভিল হান্ট : আরও ৬১৮ জন গ্রেফতার

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কাইপ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরে দুই মাসেও ভেঙে পড়া স্লাব সংস্কার হয়নি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে চোরাচালানকৃত ৩০টি ভারতীয় ফোন জব্দ

বগুড়ার কাহালুর পাঁচগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

কুড়িগ্রামের দারিদ্র বিমোচনে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবি