মিয়ানমারের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ১০ হাজার: ইউএসজিএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে ভূমিকম্প মোট নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া আর্থিক, পরিবেশ, অবকাঠামোসহ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি— এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। খবর, সিএনএন’র।
ইতোমধ্যে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯৪ জনে পৌঁছেছে। আহত দেড় হাজারেরও অধিক। জান্তা সরকারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাতে নিজেদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ইউএসজিএস জানিয়েছে, মিয়ানমারে শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভিসের বাহ্যিক একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ অনুমান করেছে। কম্পনের তীব্রতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসংখ্যাও নির্ভর করে এই শঙ্কার প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
একই দিন দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে মিয়ানমারে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর সাগাইংয়ে ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূকম্পটির এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল। ইউএসজিএস জানিয়েছে, মিয়ানমারে ৭.৭ এবং ৬.৪ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
আরও পড়ুনব্যাপক এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশেও। এই ছয় দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ায় এখনও নিখোঁজ আছেন শতাধিক মানুষ।ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেইপিদো, সাগাইং, মান্দালয়, ম্যাগওয়ে, বাগো ও পূর্ব শান— এই ছয় প্রদেশ ও অঞ্চলে ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে ‘সব দেশ’কে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ভূমিকম্পের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন