ভিডিও শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড়

বগুড়ার তথাকথিত মিনি জাফলং এর পানিতে যেভাবে ডুবে গেল শিশুটি

বগুড়ার তথাকথিত মিনি জাফলং এর পানিতে পরে এক শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার/শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : শেরপুরে ‘ভাইরাল’ হওয়া মিনি জাফলং এ জোড়গাছা ব্রিজের নীচে বাঙ্গালি নদীতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল সাদাত হোসেন (১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে ধুনট উপজেলার বিলচাপরি গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে। পাশের গ্রাম সুত্রাপুরে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।

নিহত সাদাত হোসেনের নানা মোখলেসুর রহমান জানান, ঈদের মধ্যে শিশুটি আমার বাড়ি সুত্রাপুরে বেড়াতে আসে। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে সে মিনি জাফলং নামে পরিচিতি পাওয়া বাঙালি নদীতে অন্যান্য শিশুদের সাথে গোসল করতে যায়। ব্রিজের নীচে অল্প পানিতে গোসলের সময় পা পিছলে পড়ে পানির স্রোতের সাথে ভেসে নদীর গভীরে গিয়ে ডুবে যায় সে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মামা শাহিনুল ইসলাম নাইস জানান, ভাগ্নে সাঁতার না জানার কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে অল্প পানিতে গোসল করার সময় পা পিছলে পড়ে যায় এবং স্রোতের সাথে নদীর গভীরে গিয়ে ডুবে যায়। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ফেসবুকে ঝড় : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাত্র দুইদিনেই ভাইরাল হয় বগুড়ার শেরপুরের ওই ‘মিনি জাফলং’। কথিত সেই জাফলং-এ গোসল করতে নেমে প্রাণ হারায় ষষ্ঠশ্রেণি শিক্ষার্থী আবু সাদাত ইকবাল। এনিয়ে এবার সমালোচনার ঝড় ওঠে  ফেসবুকেই। সেইসাথে বের হয়ে আসে ‘মিনি জাফলং’-এর অন্যরুপ। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনসহ অতি উৎসাহী ইউটিউবারদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শেরপুর উপজেলার বেলগাছী ব্রিজকে ঘিরে কথিত ‘মিনি জাফলং’ হিসেবে অতিরঞ্জিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সেখানে লুকিয়ে থাকা মরণ ফাঁদ নদীর গর্ত সম্পর্কে কেউই সতর্ক করেনি। সেইসাথে স্থানীয় দু’টি শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলায় নদীর পানি বিষাক্ত হয়। তাই এই বিষাক্ত পানিতে পা ভেজালেই ঘা-পচড়াসহ চর্মরোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাসহ সতর্ক করা হয়নি।

বিপদজ্জনক নদী : শেরপুরের সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মধ্যে দিয়েই বহমান বাঙালি নদীর ওপর বেলগাছী ব্রিজ। বছরখানেক আগে এই নদী খনন করা হয়েছে। যে কারনে ব্রিজের নিচে নদীর তলদেশে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথর জমে যায়। যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মিনি জাফলং’ নাম দেওয়া হয়। এই জাফলং নিয়ে ঈদের আগে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন স্থানীয় দুই যুবক।

আরও পড়ুন

আর এতেই ভাইরাল হয় বগুড়ার ‘মিনি জাফলং’ খ্যাত নতুন ওই স্থানটি। যেখানে ঈদের দিন থেকে ঢল নামে ভ্রমণ পিপাসুদের। নদীর জলধারায় স্নানোৎসবে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাতেও অনেকেই আসছেন ভাইরাল হওয়া ওই স্থানটি ঘুরতে। এমন পরিস্থিতিকে পুঁজি করে সেখানে অস্থায়ী খাবারের দোকান বসিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি শিশুদের জন্য কিছু বিনোদনেরও ব্যবস্থা করেন তারা। ফলে ঈদ পরবর্তী প্রতিদিন সকাল থেকে এই স্থানটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে।

যেভাবে পানিতে ডুবে গেল শিশুটি : আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) পাশের ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের (আরডিএ) প্রভাষক ইকবাল হোসেন ও শেরপুরের সুত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সানজিদা পারভিন রিতা দম্পতির ছেলে সাদাত হোসেন ইকবাল ঈদের ছুটিতে শেরপুর উপজেলার সুত্রাপুর গ্রামস্থ নানা বাড়িতে আসে। এরপর একই দিন সকালে স্থানীয় বেলগাছী ব্রিজ সংলগ্ন কথিত ‘মিনি জাফলং খ্যাত স্থানে ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে বাঙালি  নদীতে নেমে জলকেলি করতে করতে ডুবে নিখোঁজ হয় ওই শিশু।

যেভাবে উদ্ধার হলো শিশুটির মরদেহ : নদীতে ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে খুঁজেতে নদীতে নামে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন প্রায় আধা ঘণ্টা নদীর পানিতে খোঁজাখুঁজি করে  শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নিহত সাদাত আরডিএ স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠশ্রেণীর শিক্ষার্থী।

আহাজারি : শিশু সাদাতের মরদেহ যখন উদ্ধার করা হয় তখন এলাকায় শোকেরে ছায়া নেমে আসে। হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা-বাবা বিলাপ করতে থাকেন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। মায়ের বিলাপ দেখে উপস্থিত কেউ চোখের পানি আটকাতে পারেনি।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, আমরা দর্শনার্থী সমাগম হলে যেন আইনশৃংলার কোন অবনতি না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শ করে নদীর মধ্যেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিক খান বলেন, এটি একটি পাবলিক প্লেস, কোন বিনোদন পার্ক নয়। হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন হলো দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়ে গেছে। এমন দূর্ঘটনা কারোর কাম্য নয়। আর যেন কোন মৃত্যুর মত ঘটনা না ঘটে সেজন্য দর্শনার্থীদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা ও গ্রাম পুলিশ ডিউটি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় ২৫ লাখ টাকার সোনার গহনা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন অটো চালক

লালমনিরহাটে মসলা ও ঔষধি জাতীয় ফসল তেজপাতা চাষ দিন দিন বাড়ছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

বগুড়ার সোনাতলায় গাছকাটাকে কেন্দ্র করে মারপিটে পুলিশ সদস্য আহত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা

ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ এখনও কাটেনি বগুড়ার শহরে