বগুড়ার নন্দীগ্রামে ধান গাছের সবুজের হাসিতে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সবুজের হাসি। ধানক্ষেতের সেই মনভোলানো দৃশ্য যেন প্রকৃতির সঙ্গে কৃষকের ভালোবাসার এক অনুপম ছবি আঁকছে। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ, যার মাঝে লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন, পরিশ্রম আর আশা। এ মাটিতে শুধু ফসল নয় বোনা হয়েছে আশা, স্বপ্ন আর ভালোবাসা।
এখন ধানগাছগুলো বড় হয়ে শীষ বের হয়েছে। এলোমেলো বাতাসে দুলছে সবুজ সোনা। প্রতি বছরের মত এবারও বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা কোমর বেঁধে ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ করেছেন। প্রখর রোদকে উপেক্ষা করে দিনরাত খেটে চলেছেন তারা। উদ্দেশ্য একটাই ভালো ফলন, আর সে ফলনের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৯০ মেট্রিকটন।
স্থানীয় কৃষক খায়রুল ইসলাম বললেন, ‘এখন জমির যা অবস্থা, তাতে আমরা আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে এই মৌসুমে খুশির হাওয়া বইবে।’ এবারের আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তা মিলে ভালো ফলনের আশা করছেন সবাই। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দলগাছা গ্রামের আর্দশ কৃষক আব্দুল বারীক বললেন, ‘এই জমিতেই আমার সব। ছেলে-মেয়েদের স্কুলের খরচ, সংসারের খরচ, সবকিছুই নির্ভর করে এই ধানের ওপর। ধান গাছগুলোর দিকে তাকালেই বুক ভরে যায়।’
আরও পড়ুননন্দীগ্রামের কৃষিকাজ শুধু জীবিকা নয়, এখানকার মানুষদের জীবনের ছন্দ, ভালোবাসার ভাষা। ফসল মানেই শুধু খাদ্য নয়, তাদের সন্তানের পড়াশোনা, মেয়ের বিয়ের খরচ, কিংবা পরিবারের সবার চিকিৎসা সবকিছুর সমাধান লুকিয়ে আছে এই সবুজ সমারোহে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানিয়েছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা প্রবল। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, সময়মতো বীজ ও সার বিতরণ কৃষকদের আশার আলো জুগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে সব ধরণের পদক্ষেপ ও সহায়তা করে আসছি। এই মৌসুম তাদের মুখে হাসি ফোটাবে ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য করুন