পশ্চিমাদের জবাব দেওয়ার জন্য রাশিয়ার কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৬:৩৫ বিকাল
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৬:৩৫ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

করতোয়া ডেস্ক : রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া একের পর এলাকা পুনরুদ্ধার করার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অব্যাহতভাবে যখন নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন, তখন কার্যত চুপ ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে নীরবতা ভেঙে এবার তীব্র ক্ষোভ দেখালেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ‘সামরিক সংহতিকরণ’ বা সামরিক বাহিনীর সেনাসংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন। আর বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পুতিন বলেন, ‘যদি আমাদের দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়ে, আমরা আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য উপলব্ধ সব উপায় ব্যবহার করব।’ 

ইউরোপ রাশিয়াকে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায়। রাশিয়ার সঙ্গে ছায়া যুদ্ধ শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এটি অব্যাহত থাকলে মস্কো তার বিশাল অস্ত্রাগারের সব শক্তি দিয়ে জবাব দেবে। আর জবাব দেওয়ার জন্য রাশিয়ার কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে।’  

পুতিনের এ ঘোষণার পর রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানান, আংশিক সংহতিকরণে প্রাথমিকভাবে সামরিক অভিজ্ঞতা আছে এমন প্রায় তিন লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এ আংশিক সংহতিকরণের বিষয়টি অস্পষ্ট এক ধারণা। তবে এর অর্থ হতে পারে, রুশ ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের যুদ্ধের প্রচেষ্টায় আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ করা সত্ত্বেও রাশিয়া এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেনি। এ আক্রমণকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলেই অভিহিত করে আসছে মস্কো। 

তবে পুতিনের নতুন এ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ঘোষণাও আসতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।   

এদিকে পুতিনের এ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমারাও। পুতিনের বক্তৃতার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ মন্ত্রী গিলিয়ান কিগান বলেন, ‘পুতিনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। স্পষ্টতই এটি এমন হুমকি, যা আমাদের খুব গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত। কারণ, আমরা যেমন নিয়ন্ত্রণে নেই, আমি নিশ্চিত যে, তিনিও (পুতিন) নিয়ন্ত্রণে নেই।’ 

এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে ১ লাখ ৩৭ হাজার সদস্য বাড়ানোর এক নির্দেশনায় (ডিক্রিতে) সই করেন পুতিন। বর্তমানে রুশ সামরিক বাহিনীতে মোট সদস্য সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বেসামরিক কর্মী রয়েছে প্রায় ৯ লাখ।  

পুতিনের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২০ লাখ ৩৯ হাজার জনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সদস্য হবে ১১ লাখ ৫০ হাজার ৬২৮।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়