এই ব্যক্তির ১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান !

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৩, ০৫:৩৫ বিকাল
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৩, ০৫:৩৫ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

উগান্ডার পূর্বাঞ্চলীয় প্রত্যন্ত বুতালেজা জেলার বুগিসা গ্রামের বাসিন্দা মুসা হাসাহিয়া কাসেরার স্ত্রী ১২ জন। ১০২ সন্তানের এই জনকের নাতি-নাতনির সংখ্যা ৫৭৮।

নাতি-নাতনির সংখ্যা এত বেশি যে তাদের অধিকাংশেরই নাম মনে রাখতে পারেন না কাসেরা। বিশাল এই পরিবার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। খোরপোষ দিতে না পারায় ছেড়ে গেছেন দুই স্ত্রী। এত দিনে কাসেরার উপলব্ধি—‘যথেষ্ট হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, অবশ্য আমি করিনি। আমি আর সন্তান নিতে চাই না। কারণ, এত বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ থেকে আমার শিক্ষা হয়েছে। সন্তানদের আমি লালন-পালন করতে পারছি না।’ বর্তমানে কাসেরা বেকার। অবশ্য তার গ্রামটি এখন এক ধরনের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, পারিবারিক আয়োজনে কাসেরা প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭২ সালে। এ সময় তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেরই বয়স ছিল ১৭ বছর। এক বছর পর তাদের প্রথম সন্তান হয়।

কাসেরা বলেন, ‘যেহেতু আমরা শুধু দুই সহোদর ছিলাম, তাই আমার ভাই, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, বংশের সম্প্রসারণে অনেক বেশি সন্তান জন্ম দিতে যেন বেশ কয়েকটি বিয়ে করি।’ 

গবাদিপশু বিক্রেতা ও কসাই হিসেবে সচ্ছল জীবন ছিল কাসেরার। আর অবস্থাসম্পন্ন দেখে গ্রামবাসী তার সঙ্গে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিতে চাইতেন। এমনকি তাদের কারও কারও বয়স ছিল ১৮ বছরের কম। উগান্ডায় বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ হয় ১৯৯৫ সালে। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে বহুবিবাহের প্রচলন রয়েছে।

কাসেরার সন্তানদের বয়স ১০ থেকে ৫০ বছর। আর তার সবচেয়ে ছোট স্ত্রীর বয়স ৩৫ বছর। তিনি বলেন, ‘প্রথম আর শেষ সন্তান ছাড়া বাকিদের নাম মনে রাখতে পারেন না। তাদের জন্মের বিস্তারিত জানতে একটি পুরোনো নোট বইয়ের পৃষ্ঠা ওলটাতে ওলটাতে কথাগুলো বলছিলেন কাসেরা।’

তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চিনতে তাদের মায়েরা সাহায্য করেন। এমনকি কয়েকজন স্ত্রীর নামও মনে করতে পারেন না। এ জন্য নিজের এক সন্তানের সাহায্য নেন তিনি।’

একজন স্থানীয় কর্মকর্তা যিনি প্রায় ৪ হাজার জন লোকের এই গ্রাম তত্ত্বাবধান করেন। তিনি জানান, যে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, হাসাহ্যা তার সন্তানদের খুব ভালভাবে লালনপালন করেছেন এবং তাদের কারণে চুরি বা মারামারির কোনও ঘটনা ঘটেনি।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়