এবার বোরো চাষে বাড়ছে খরচ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ১১:০৯ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ১২:২৬ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

শাওন রহমান: এবার বোরো চাষে খরচ বাড়ছে। বগুড়ার বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সাথো কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। এছাড়াও একই কথা বলছে জেলা কৃষি বিভাগও। তারা বলছে, বিঘা প্রতি খরচ বাড়বে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

সেচের জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, সার, কীটনাশক, বীজ, শ্রমিকসহ ধান চাষের সব উপকরণের বাড়তি দামের প্রভাবেই এবার বগুড়ায় প্রতি বিঘা বোরো চাষে খরচ পড়বে ১৮ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ১৫ থেকে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা।

কৃষকরা জানান, গত বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের খরচ ছিল এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা। বীজ প্রতি কেজি ছিল ২০০ টাকা, এবার তা হয়েছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা।

জমি তৈরি এক হাজার থেকে ১৩শ’ টাকা, সার খরচ দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, কীটনাশক ৬শ’ থেকে এক হাজার টাকা, ধান রোপণ এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা, ধান কাটা-মাড়াই তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা হয়েছে।

সঙ্গে যুক্ত হবে জমির বর্গা ও পত্তনি খরচ। সে হিসেবে গত মৌসুমে এক বিঘা জমিতে বোরো উৎপাদনের খরচ ছিল ১৫ হাজার থেকে সাড়ে  ১৫ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮ হাজার টাকা। কৃষকের সাথে কৃষি বিভাগের খরচের হিসাব কমবেশি হলেও বিঘা প্রতি খরচ যে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বাড়বে তা মেনে নিচ্ছেন সব পক্ষই।

সদর উপজেলার রবিবাড়িয়া এলাকার কৃষক আব্দুল বারি বলেন, বোরো চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে আর তাই ধান উৎপাদন খরচও বাড়বে।

তবে যে ভাবে খরচ বাড়বে সেই অনুপাতে যদি ধানের দাম পাওয়া তাহলে কোন সমস্যা হবে না। শ্যামবাড়িয়া এলাকার কৃষক আব্বাস উদ্দিন ও খলিল মিয়া বলেন, বাড়তি খরচের কারণে বর্তমানে চাষাবাদ করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত কৃষি এবং কৃষকের কথা চিন্তা করে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম নতুন ভাবে সম্বনয় করা। কিন্তু কৃষি ও কৃষকের কথা সেভাবে ভাবা হচ্ছে না। এভাবে প্রতি বছর খরচ বাড়লে চাষাবাদ ছেড়ে অন্য কিছু করতে হবে।

পাওয়ার টিলার চালক আব্দুল মজিদ বলেন, গত বছরে যে দামে জমিতে হাল চাষ করেছেন এই বছর ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই দামে চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত বছর প্রতি লিটার ডিজেল ৬০-৬৫ টাকায় কিনলেও এ বছর তা ৮০-৮৫ টাকা পড়ছে। তাই তারা প্রতি বিঘা জমিতে ১০০-১৫০ টাকা বেশি দামে হাল চাষ করছেন।

সেচ স্কিম চালান আব্দুল লতিফ। তিনি বলছেন, বিদ্যুতের দর প্রতি ইউনিটে যে ভাবে বেড়েছে তাতে প্রতি বিঘা জমিতে তারা যে ভাবে ধানের বিনিময়ে সেচ দিয়ে আসছেন এবার তা আর সম্ভব হবে না। তবে কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং তারাও যাতে বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে পারেন সেভাবেই নতুন করে সেচের বাড়তি খরচ নির্ধারণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৩ মেট্রিকটন। এ বছর বোরো চাষে খরচ বাড়বে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ বাড়বে।

সে হিসেবে এ বছর প্রতি বিঘা বোরো ধান উৎপাদনে খরচ পড়বে ১৮ হাজার টাকা। খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বোরো ধানের উৎপাদনে খরচ কমাতে পরিমিত সেচ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এছাড়াও পোকামাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহার কম করে জৈব পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমনে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়