সরব প্রচারণায় মুখর বগুড়া সদর আসনের উপ-নির্বাচনের মাঠ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৮, ২০২৩, ১০:৪৮ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ২৮, ২০২৩, ১০:৪৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শাওন রহমান: উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে বগুড়া-৬ সদর আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচারণা। প্রতিক পাওয়ার পর থেকেই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরোদমে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা ছুটছেন পাড়া-মহল্লা ও অলিতে-গলিতে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। হাট-বাজার, বন্দর থেকে চায়ের স্টল সবখানে এবার বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের আলোচনা।

স্বল্প মেয়াদের এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না থাকা এবং সব প্রার্থীই স্থানীয় হওয়ায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে এবারের প্রচারণায়। ধানের শীষ প্রতিকের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে জয়ের সুযোগ দেখছেন বেশিরভাগ প্রার্থীই। এমনকি ভোটারও স্থানীয় যোগ্য কাউকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগও কাজে লাগাতেন চান।

অবহেলিত বগুড়ায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নৌকার প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু যেমন প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন তেমনি জেলা শহরের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জাপা’র প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমর।

বগুড়া-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর মাইকিংয়ে সরগরম নির্বাচনী মাঠ। নারী কর্মীদেরও দলবেঁধে মাঠে নামিয়েছেন অনেক প্রার্থী। প্রচারণার শেষ দিকে নিজ নিজ প্রার্থীর প্রতিক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এসব কর্মীরা। গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীরা তাদের কর্মীদের মাঠে নামিয়েছেন জোরেসোরেই। যে এলাকায় বা বাড়িতে যাচ্ছেন সেখানে দলবেঁধেই যাচ্ছেন, দিচ্ছেন হ্যান্ডবিল, দেয়ালে দেয়ালে সাঁটাচ্ছেন ছোট ছোট স্টিকার।

সেই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী কর্মীরা তাদের প্রার্থীদের হ্যান্ডবিল নিয়ে দল বেঁধে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এবারের নির্বাচনে মূল কয়েকজন প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের তেমনভাবে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি অধ্যুষিত এই আসনের উপ-নির্বাচনে দলটির প্রার্থী না থাকায় জয়ের সুবর্ণ সুযোগ দেখছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রচারে কোন কমতি রাখছেন না তারাও। 
এদিকে আওয়ামী লীগে সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জনগণকে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

এবার আসনটি পেতে বেশ চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুকে প্রার্থী করে বিভেদ ভুলে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশ ক’জন হেভি ওয়েট নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মীদের চাঙ্গা করতে বগুড়ায় থেকে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করে তাদের ঐক্যের ও নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্বল্প মেয়াদে হলেও আসনটি ক্ষমতাসীনদের চেয়ে বগুড়াবাসীর উন্নয়নের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। প্রার্থী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা সবাই বগুড়াতে বিমান বন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, করতোয়া নদীর দু’ধারে সড়ক নির্মাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমর তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে এবং তার প্রতি মানুষ আস্থা রাখছেন মনে করে তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে জোরেসোরেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে এই উপ-নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যে ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন।

দলীয়ভাবে তারপরই প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আব্দুল মান্নান আকন্দ এবং সরকার বাদল, এরপরই রয়েছেন মাসুদার রহমান হেলাল, অন্যান্য প্রার্থীরা নামমাত্র প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে আলোচিত প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রার্থীতার কথা বেশি প্রচার হলেও বাস্তবে মাঠে তার প্রচার-প্রচারণা ঠিক ততটা দৃশ্যমান নয়। এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় যা-ই হোক আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

এমনকি মাঝ রাতে বগুড়ার নির্বাচনী মাঠে চিত্রনায়িকা মুনমুনকে সাথে চমক সৃষ্টি করছেন হিরো আলম। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে হিরো আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। তবে মাঠের প্রচারণায় তিনি নেই বললেই চলে। অনেকের অভিমত আলোচনায় থাকতেই তিনি বগুড়ার দু’টি আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

এছাড়াও অন্য প্রার্থীদের পোস্টারও চোখে পড়ছে না সেভাবে। এমনকি তাদের কোন কর্মীকেও মাঠে দেখা যায়নি তেমন ভাবে। ফলে এই নির্বাচনে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকলেও মাত্র কয়েকজন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় ঘুরে ফিরে চোখে পড়ছে। ভোটারও খুঁজছেন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী, যারা সুখে-দুঃখে তাদের কাছে থাকবেন, বগুড়ার উন্নয়নে সংসদে কথা বলবেন এমন মানুষকেই চাচ্ছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, যিনি যোগ্য ও শিক্ষিত এবং যার মধ্যে দেশপ্রেম আছে তেমন মানুষই প্রতিনিধি হোক। সাধারণ মানুষের কথা যিনি সংসদে তুলে ধরবেন তেমন ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে চান তারা।

ভোটাররা আরও চান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও শিক্ষিত মানুষই হোক তাদের প্রতিনিধি। ভোটাররা মনে করছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন থেকে চারজন প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকার নির্বাচনে ধানের শীষ না থাকা এবং ভোট নিয়ে তাদের নেতিবাচক প্রচারণায় ভোটের দিন কী পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি হবে তার ওপরও নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়