শিক্ষা ও মনুষ্যত্বে ব্যারাম: কোন পথে দেশ

রাশেদুজ্জামান রাশেদ

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২২, ১১:৩০ রাত
আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২২, ১১:৩০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

উন্নয়নশীল আলোকিত দেশ ও মনুষ্যত্ববোধের মানুষ তৈরীর প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। জাতির অন্ধকার দূর করার বাহক হিসাবে কাজ করে শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানুষ বিবেকবান হয়ে গড়ে ওঠে। দেশমাতৃকার সংকট মোকাবেলায় নিরলস পরিশ্রম করে দেশকে নিজের প্রিয় মানুষের মত আগলিয়ে রাখে। কেমন আছে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা কি আলোকিত দেশ ও মনুষ্যত্ববোধের মানুষ তৈরী করতে পারছি। পৃথিবীতে এক বৃহত্তম যন্ত্র আছে সে যন্ত্রের নাম রাষ্ট্রযন্ত্র। এ যন্ত্র যদি এক কেন্দ্রীক চিন্তার পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিচালিত হয় তাহলে সেই যন্ত্র শুধু যন্ত্র মানব তৈরী হবে বাস্তবে মনুষ্যত্ববোধের মানুষ তৈরী হবে না। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে যে রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার জন্য এক সাগর রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করলো সেই রাষ্ট্রের শিক্ষা কি মৌলিক অধিকার হিসাবে গড়ে ওঠেছে। প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে না শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসাবে আমরা গড়ে উঠাতে পারিনি কারণ শহর থেকে গ্রাম ব্যাঙের ছাতার মত বাণিজ্যিক ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেখানে টাকার বিনিময়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। অর্থাৎ বাজারের পণ্যের মত শিক্ষা হয়েছে।

আবার শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন এক বাজার তৈরী হয়েছে। সে বাজারের নাম চাকরির বাজার। সৎ সাহস নিয়ে রাষ্ট্র কি নিশ্চিতভাবে বলতে পারে শিক্ষা শেষে কাজ দিব? না কখনও বলতে পারে নি ভবিষ্যৎ বলার আগ্রহ কতটুকু আছে তা আমার জানা নেই। রাষ্ট্র আমাদের কোন শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষা দিচ্ছে? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি সার্টিফিকেট তৈরীর মাধ্যমে নিত্য নতুন বেকার করা? যত দিন যাচ্ছে ততই কেন মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে? আর শিক্ষা গুরুর  প্রতি কেন শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতির আলোকবর্তিকা কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষক নির্যাতনের খবর আসে, গণরুমে ও হল রুমে শিক্ষার্থী নির্যাতনে শিক্ষার্থীদের আর্তনাদে উদ্বিগ্ন হতে তখন রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার জায়গায় বড় হয়ে উঠে। সম্প্রতি গত কয়েক দিনে দেশের নামকরা তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গণমাধ্যমের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক ভাবে বলতে হয় শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়েছে তা ওই ক্যাম্পাসে প্রত্যেকটি মানুষ জানে অথচ অপরাধী গ্রেফতার করা হচ্ছিলো না। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে রাজপথে এসে দাবি জানায় অপরাধী গ্রেফতার করার জন্য। একবার ভাবুন তো অপরাধী সবার সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এর কারণ কি? নারী ও শিক্ষা পণ্য হিসাবে থাকবে? "তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।” এ কথা বলে গেছেন বিশ্ব বিখ্যাত সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট। তিনি জাতিকে শিক্ষিত করতে শিক্ষিত মা'এর প্রয়োজনবোধ দেখিয়েছেন।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতে শিক্ষাবীদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শিক্ষানুরাগী মানুষের উদ্বিগ্নতা বেড়ে গেছে। সবাই মতামত প্রকাশ করেছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে। অন্য দিকে রাজপথে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ক্লাস ও আন্দোলন চলছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে। শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে নতুন স্লোগান তৈরী হয় "সব যখন সচল তখন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন অচল? এমন স্লোগানের মুখে রাষ্ট্র সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শর্ত সাপেক্ষে খুলে দিল রাষ্ট্র। তারপর একের পর এক খবর আসতে শুরু করে পত্র পত্রিকায়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি সংখ্যা খুবই কম। তবে আশার আলোর কথা করোনা ভাইরাসের দাপট যখন কমতে শুরু করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

করোনা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার নানা গালগল্প শুনে এসেছি কিন্তু বাস্তবে চলতি শিক্ষা বাজেটে কোন মৌলিক পরিবর্তনই লক্ষিত হয়নি। বরং শিক্ষা খাত অবহেলিতই রয়ে গেল। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি নগণ্য। বিগত কয়েক দশক ধরেই ১২% এর কাছাকাছিই ছিল এই বরাদ্দ, তাই এই বছরের বাজেটেও শিক্ষাখাতে সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষা বাজেট হয়েছে। শিক্ষা বাজেটে ছাত্রসমাজের কবে স্বস্তির নিঃশ্বাস মিলবে? শিক্ষিত জাতি কেমন করে তৈরী হবে? চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ তৈরীর জন্য শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট অপরিহার্য। ফলে রাষ্ট্রের বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান, দক্ষ, কর্মঠ, সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী চেতনায় জনবল তৈরী করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিক্ষা ও মনুষ্যত্বে যে ব্যারাম ধরেছে তার ওষুধ হিসাবে শিক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়