যা ছাড়া দুর্গাপূজার মেলা অসম্পূর্ণ | Durga Puja Mela

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ০৯:১০ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ০৯:১০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

রাহাতুল আলম: দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসবকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি, নানা আয়োজন। বিভিন্ন উপকরণ আর রীতির সমন্বয়ে প্রতিটি পূজা সম্পন্ন হয় তাদের। বিশেষ করে দূর্গাপূজা আসলেই প্রসাদ শব্দটির সাথে সবাই যেন একাত্ম হয়ে যায়। পূজায় প্রসাদ একটি প্রয়োজনীয় ও আকর্ষণীয় বিষয়। অনেকেই তো পূজোতে যাক কিংবা না যাক, প্রসাদ তার চাই চাই। 

 

হিন্দু ধর্মালম্বীরা এসব প্রসাদকে মায়ের ভোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অনেকে বাড়িতেই ভিয়েন বসিয়েও তৈরি করেন প্রসাদ। তবে পাইকারী দরে কিনেই পুজায় বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তরিকতার সাথেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তারা। হরেকরকম মিষ্টি জাতীয় প্রসাদ তৈরীতে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগররা। বগুড়ায় দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে তাদের ব্যবসা।

বগুড়া সদর উপজেলাধীন গোকুল ইউনিয়নের চাঁদমুহা হরিপুর মধ্যপাড়া মন্দিরের পাশেই তৈরী হয় বিভিন্ন রকম মিষ্টি জাতীয় প্রসাদ। এ কারখানায় যৌথভাবে কাজ করেন ২৫জন ব্যক্তি। তৈরী করেন কদমা, সাঁচ, বাতাসাসহ নানা ধরণের পণ্য। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই পেশা ধরে রেখেছেন তারা। বছরজুড়ে ব্যবসা হলেও পুজা কেন্দ্রিক ব্যবসা হয় বেশ জমজমাট হয়। প্রতিবছর দূর্গাপুজা উপলক্ষ্যে প্রায় ২৫০মণ চিনির কাজ করেন তারা। এরমধ্যে চিনির কদমা এবং সাঁচের ক্রেতা আসেন বেশি, তবে বাতাসা ও অন্যান্য পণ্যও রয়েছে বেশি বিক্রির তালিকায়।

মিষ্টিজাতীয় এসব পণ্য তৈরীর প্রধান উপকরণ মূলত চিনি। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নানান নামে পন্যগুলো তৈরী করা হয়। শ্রমিকরা জানান, বস্তা থেকে চিনি ঢেলে পরিমাণমত উত্তপ্ত পানিতে গলানো হয়। এরমাঝে সাইট্রিক এসিড মিশিয়ে গলিত চিনিকে আঠালো করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপে হাতে ও কাঠের তৈরী যন্ত্রে ঢেলে একেকটি পণ্য তৈরী করা হয়।

পণ্যগুলো বাজারজাত করতে মাঠপর্যায়ে যেতে হয় না তাদের। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন এসব পণ্য নিতে। দূর্গাপুজায় তাদের চাহিদা থাকে বেশি। সারিয়াকান্দির কুতুবপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী জানান, সারাবছর তিনি এসব পণ্যে ব্যবসা করেন। খুচরা বিক্রেতারা তার কাছ থেকে পণ্য নিয়ে বিক্রি করেন। দূর্গাপুজায় প্রায় লক্ষ টাকা লাভবান হোন তিনি। পুজার মেলায় চিনির তৈরী কদমার ক্রেতা সবচেয়ে বেশি পান তারা।

শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি শেষের পথে সনাতন ধর্মালম্বীদের। প্রসাদ তাদের পুজার অন্যতম একটি অংশ। চাঁদমুদা হরিপুর মধ্যপাড়া যুবমন্দিরের সভাপতি বিমল চন্দ্র বলেন, ‘হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় পুজা দূর্গাপুজা প্রতিবছর আশ্বিন মাসে পালন করি আমরা। পুজাতে খাগড়াই, বাতাসা, কদমাসহ এসব পন্য মায়ের ভোগের জন্য প্রয়োজন হয়। প্রসাদগুলো মন্দিরে নিয়ে তুলসী গঙ্গার জল দিয়ে মায়ের কাছে নিবেদন করি। ভোগ শেষ হলে লোকজনের মাঝে বিতরণ করা হয়।’

দূর্গাপুজা উপলক্ষ্যে বগুড়ায় প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। সকল প্রস্তুতি শেষে দূর্গাপুজার জন্য অপেক্ষা করছেন সনাতন ধর্মাম্বীরা। করোনার প্রভাব না থাকায় এবছর উৎসবমুখর পরিবেশেই পুজা পালন হবে তাদের। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়